ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এসআরবি বিলে বিরোধী দলের ভিন্নমত

সংসদীয় কমিটির বৈঠক

এসআরবি বিলে বিরোধী দলের ভিন্নমত
×

সংসদ অধিবেশন (ফাইল ফটো)

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১২ | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে এসআরবি (র‌্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন) বিলে ৮টি বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে লিখিতভাবে বিরোধী দল তাদের মতামত তুলে ধরে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি নামে নতুন বাহিনী গঠনে গত বৃহস্পতিবার সংসদে বিল আনা হয়। পরে সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। গতকাল বিকেলে কমিটি বৈঠক করে।

কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ রকিবুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নূরুল ইসলাম ও আব্দুল বাতেন।

বৈঠকের একাধিক সূত্র জানায়, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটি দ্রুত পাস না করে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ সভা, রেকর্ড সুরক্ষা, স্বাধীন অভিযোগ তদন্ত, নিয়মিত নজরদারি, আটক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং বেআইনি আদেশের  বিরুদ্ধে সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজেদের প্রস্তাব দিয়েছে। বিলে এসব ক্ষেত্রে যেভাবে বিধান রাখা হয়েছে তার সঙ্গে তারা ভিন্নমত পোষণ করেছে।

বিরোধী দলের আপত্তি
প্রস্তাবিত অভিযোগ প্রতিকার কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব এসআরবির কর্মকর্তা হওয়ায় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। কমিটির ক্ষমতাও সীমিত। বিরোধী দল অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে সভাপতি করে কমিটি করার প্রস্তাব দিয়েছে।

তারা বলেছে, এসআরবিকে গ্রেপ্তার, তল্লাশি, জব্দ ও অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হলেও তাদের অভিযান ও কার্যক্রমের ওপর আদালত বা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত নজরদারি/প্রতিবেদনের ব্যবস্থা নেই।

বিরোধী দলের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এসআরবি যে জেলায় কাজ করবে, সেখানে মাসিক কার্যবিবরণী দিতে হবে। এতে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, কারণ, থানায় হস্তান্তরের সময়, তল্লাশি-জব্দের তথ্যসহ সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকবে। প্রতিবেদন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সুপার/পুলিশ কমিশনারকে দিতে হবে।

বিরোধী দল বলেছে, বেসামরিক ব্যক্তিকে এসআরবি কোথায় ও কতক্ষণ আটক রাখতে পারবে, তা স্পষ্ট নয়। এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ থাকলেও সেগুলোর অবস্থান প্রকাশ ও হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রাখার বাধ্যবাধকতা নেই।

তাদের প্রস্তাব এসআরবির প্রতিটি দপ্তর, ক্যাম্প, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে। প্রতিটি আটক ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, আইনি কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসা ও থানায় হস্তান্তরের তথ্য রেজিস্টারে রাখতে হবে। থানায় হস্তান্তরের সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে।

কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন জানান, র‌্যাবকে বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার ছিল। এখন আসলে র‌্যাব যেভাবে ছিল হুবহু রেখে দেওয়া হয়েছে। তারা বিলের ৭-৮টি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×