ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, বাড়ল তেলের দাম

অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছুঁয়েছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, বাড়ল তেলের দাম
×

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-আইআরজিসি গত মঙ্গলবার মনুষ্যবিহীন এক মার্কিন ডুবোযানের ছবি প্রকাশ করে। এটি হরমুজ প্রণালি থেকে তারা আটক করেছে বলে জানায় -এএফপি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৪ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজে হামলার কথা জানিয়েছে ইরান, যার মধ্যে আটটিই তেলের ট্যাঙ্কার। গতকাল বুধবার দেশটি এ তথ্য দেয়। এমন একটি সময় এই খবর এলো, যার আগে ওই প্রণালির কাছে পাঁচটি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার ডুবিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম ওই প্রণালিতে তেলের জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা হলো।   

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, এই হামলা-পাল্টা হামলার জেরে তেলের দাম বেড়েছে। জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছুঁয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জ্বালানির দাম গ্যালনপ্রতি ৫ দশমিক ৯৪ ডলার ছুঁয়েছে।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) জানায়, শত্রুপক্ষ আরও দুই থেকে তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলে তারাও হামলার মাত্রা বাড়াবে। এর জবাবে ইরান ২০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে। 

আইআরজিসি আরও জানায়, ইরান শিগগিরই নতুন মানচিত্র প্রকাশ করবে, যাতে আরব উপসাগরের চাবাহার ও পাকিস্তানের কাছে অবস্থিত ইরানি উপকূল পর্যন্ত এলাকা নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংঘাতের মাত্রা বেড়েছে। সেখানে সংঘাত তীব্র হলেও জ্বালানির দামে প্রভাব পড়তে পারে। কারণ দুই পক্ষের হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়বে।

ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার ধ্বংস
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পাঁচটি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার ধ্বংসের খবর জানায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেটিতে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে ডুবে যেতে দেখা যায়। সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, এই আক্রমণ তারা মূলত চালিয়েছে ইরানের আগের দিনের চালানো হামলার জবাব হিসেবে। সেই হামলায় ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। তবে এতে কেউ মারা যাননি। 

ওয়াশিংটন নিজেদের নতুন নীতিও ঘোষণা করেছে। সে নীতিতে তাদের যুদ্ধজাহাজ হামলার মুখে পড়লেই ইরানি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দেবে তারা। গত শনিবার তারা প্রথম তিনটি ট্যাঙ্কারে হামলার কথা জানায়। 

ইরান যা বলছে 
ইরান বলছে, তারা আরও সক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে আঘাত হানছে। পূর্ব জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে গতকাল বুধবার জানিয়েছে আইআরজিসি।

পাশাপাশি দুটি মার্কিন নৌযান এবং আটটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে ইরান। তাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ এলাকা দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল ওই নৌযানগুলো। 
এদিকে উত্তর উপসাগর ও ওমান উপসাগরে একাধিক নৌযান হামলার কবলে পড়ার তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ নৌ সুরক্ষা সংস্থা ইউকেএমটিও। কত হতাহত হয়েছে বা পরিবেশগত প্রভাব কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর রশিদে হামলার পর একটি নৌযান ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

এদিকে, গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা হওয়া সম্ভব এবং তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ যুদ্ধের অবসান হবে। ট্রাম্প আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে না, তবে আলোচনা হতে পারে। তেলের দামও কমে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।   

আরও পড়ুন

×