ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিজিটাল বিবাহ-তালাক নিবন্ধনে বাল্যবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ সহজ হবে: আইনমন্ত্রী

ডিজিটাল বিবাহ-তালাক নিবন্ধনে বাল্যবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ সহজ হবে: আইনমন্ত্রী
×

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৪৩

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদসহ বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে দ্রুত বিবাহ ও তালাকের তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সামনে যদি কোনো ইনোভেটিভ আইডিয়া আসে, সেটাকে আমরা গ্রহণ করে জনকল্যাণের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে দেশের ১০ জেলার ১০ উপজেলায় ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হবে। উপজেলাগুলো হলো—গাজীপুরের কালীগঞ্জ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, কুড়িগ্রাম সদর, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, নড়াইল সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, সিলেট সদর, কক্সবাজারের চকরিয়া ও কিশোরগঞ্জ সদর।

প্রকল্পের আওতায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে বয়স ও পরিচয় যাচাই করা হবে। এতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি গোপন বিবাহ, বহুবিবাহ ও জালিয়াতি শনাক্ত ও প্রতিরোধ সহজ হবে। বিবাহ ও তালাকের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি দ্রুত ডিজিটাল সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের উন্নয়ন কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগও স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইস পরীক্ষামূলকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পের চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব।

আরও পড়ুন

×