প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ নিয়ে বিতর্ক
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৩
‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ পরিস্থিতির জের ধরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের এজলাস ত্যাগ নিয়ে গতকাল বুধবার সংসদে বিতর্ক হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনা তুলে ধরে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগে এ ধরনের ঘটনা কী বার্তা দিচ্ছে?
অন্যদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ঘটেছে। তবে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ
ঘটাবেন না। যদিও মন্ত্রীর বক্তব্যের পরে বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে চাইলে স্পিকার তাঁকে সুযোগ দেননি।
বুধবার মাগরিবের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নাজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার ঘটনার বার্তা দিচ্ছে কিনা– খতিয়ে দেখতে হবে। এ বিষয়ে তিনি আইনমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন। বিরোধী দলের এ সদস্য নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার দাবি করে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির একটি বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের সব বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন এবং মঙ্গলবার তারা আর কোর্টে ফিরে আসেননি। একজন আইনজীবী বারবার সত্য গোপন করে রিট করার কারণে জরিমানা করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনার সূত্রপাত।
তিনি বলেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন শুধু একজন আইনজীবী নন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি একজন এমপি।
সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এ সদস্য বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গ। এর কোনোটিই সার্বভৌম নয়। এই তিনটা মিলে জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সেই ক্ষমতাকে সেভাবে ব্যবহার করতে হবে– একটা অঙ্গ আরেক অঙ্গের ওপরে কোনো প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবে না। এটাই সবার জন্য প্রযোজ্য হবে।
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে ‘সেপারেশন অব পাওয়ারের যে থিওরি, তা এখানে অ্যাপ্লাই করে না।’ কারণ ঘটনাটি ঘটেছে একজন আইনজীবীর সঙ্গে; সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন তিন অঙ্গের মধ্যে পড়ে না। এটি আইনজীবীদের সংগঠন, তারা জনগণের অংশ। এটি বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ বা শাসন বিভাগকে প্রতিনিধিত্ব করে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ওই ঘটনটিকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।
আদালতে অতীতের ঘটনার উদারণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিচারালয়ে এ ধরনের ঘটনা হয়ে থাকে। এটি বার ও বেঞ্চের সম্পর্কের বিষয়।
প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি যেভাবে কোর্ট থেকে উঠে গেলেন। আমাদের কাছে মনে হয়েছিল, আজকে (গতকাল) প্রধান বিচারপতি কোর্টে উঠে– উনি কনটেম্পট রুল (আদালত অবমাননা) ইস্যু করবেন। কিন্তু তিনি সকাল ৯টায় উঠেই যথারীতি কাজ শুরু করেছেন এবং ওই আইনজীবী (মাহবুব উদ্দিন খোকন) প্রধান বিচারপতির কোর্টে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে মামলা করেছেন বলে খবর পেয়েছি।’
পরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা দিতে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্পিকার তাঁর উদ্দেশে বলেন, যদি বিশেষ ব্যাখ্যা থাকে তা দিন। আইনমন্ত্রী সুন্দরভাবে বলেছেন। আমি ওই বারের ক্ষুদ্র সদস্য। আপনি ওই বারের সভাপতি। আমার মনে হয়, আইনমন্ত্রী যেভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সংসদে তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আর নতুন করে যদি যুক্ত করার না থাকে তাহলে বসুন।
এ পর্যায়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন আবারও ঘটনার বর্ণনা শুরু করলে স্পিকার বলেন, জুডিশিয়াল বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কথা বলা শোভা পাচ্ছে না। আইনমন্ত্রী সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আপনি বসুন। এক পর্যায়ে হইচই হলে স্পিকার তাঁর মাইক বন্ধ করে দেন।