ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

শেষ অধ্যায়ে প্রবীণদের সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতের আহ্বান

শেষ অধ্যায়ে প্রবীণদের সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতের আহ্বান
×
×

ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:২৮

প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন, তাঁরা দেশের অভিজ্ঞ, দক্ষ ও মূল্যবান মানবসম্পদ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে তাঁদের শ্রম, মেধা ও অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই জীবনের শেষ অধ্যায়ে তাঁদের সম্মান, নিরাপত্তা, যত্ন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানিয়েছেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভা থেকে প্রবীণবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনের সভাপতি ফেরদৌস আরা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. খবির উদ্দিন ফোরামের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণে সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরেন। এতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, নির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন বক্তব্য দেন।

সভায় প্রবীণদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, মেট্রোরেল ও ট্রেনে ভাড়া ছাড় এবং দানপত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও প্রবীণ দাতার জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার সুরক্ষার উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। এ প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, শুধু দীর্ঘ জীবন নয়, অর্থবহ, সক্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

সভা থেকে সর্বজনীন সিনিয়র সিটিজেন কার্ড চালু, হাসপাতাল, ব্যাংক, সরকারি অফিস ও অন্যান্য সেবাপ্রতিষ্ঠানে প্রবীণদের অগ্রাধিকার সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গণপরিবহনে ঘোষিত ভাড়া ছাড় কার্যকর ও সম্প্রসারণ, জাতীয় প্রবীণ নীতি ২০১৩-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রবীণ নির্যাতন, প্রতারণা ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত হয়রানি প্রতিরোধ এবং বিনোদন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক মিলনকেন্দ্রে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা প্রবীণদের দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের সক্ষমতা অনুযায়ী পরামর্শক, প্রশিক্ষক, মেন্টর ও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে শিক্ষা, সমাজসেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তাঁরা। এতে প্রবীণরা সক্রিয় থাকার পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের প্রবীণ। তাই প্রবীণদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একটি প্রজন্মের দাবি নয়; এটি সরকার, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। পরিবারে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা ও যত্ন এবং প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের মানবিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

আরও পড়ুন

×