ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সংবাদ সম্মেলন

ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খাবারের দাম বাড়াতে চান রেস্তোরাঁ মালিকরা

ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খাবারের দাম বাড়াতে চান রেস্তোরাঁ মালিকরা
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়, শ্রমিকদের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়ার কারণে রেস্তোরাঁ খাতে ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে বিক্রি কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে খাবারের দাম বাড়াতে চান রেস্তোরাঁ মালিকরা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর পল্টনে ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায়। সমিতির সভাপতি শাহ সুলতান খোকনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। তিনি এ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ৯ দফা দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চাল, ডাল, তেল, মাংস, মাছ, মসলা, শাকসবজি, ডিমসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, দোকান ভাড়া, পরিবহন ব্যয় এবং শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। ফলে রেস্তোরাঁ পরিচালনার ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বেশির ভাগ রেস্তোরাঁ খাবারের দাম বাড়াতে পারছে না।

তারা জানান, দাম বাড়াতে গেলে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বিক্রি কমছে। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথাযথ উন্নতি না হওয়ায় গ্রাহকদের অনেকে রাতে রেস্তোরাঁয় যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে সার্বিক বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, প্রকৃত ব্যয় যাচাই না করে খাবারের দাম সমন্বয়ের কারণে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা বা নানাভাবে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। রেস্তোরাঁ ব্যবসার জন্য একক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ ব্যবসা করার জন্য সরকারি ১০ থেকে ১২টি সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়। এতগুলো অনুমোদনের কারণে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় সময় এবং ব্যয় দুটোই বাড়ছে। এ সমস্যা দূর করতে রেস্তোরাঁ খাতের ব্যবসায়ীরা ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়ে এলেও সরকার কর্ণপাত করছে না। একক কর্তৃপক্ষের অধীনে সমন্বিত লাইসেন্স ও তদারকি ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং রেস্তোরাঁকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও সহজ হবে।

ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দলের ট্যাগ দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। তারা বলেন, বিভিন্ন কারণে বিগত সরকারের সরকারি দলের নেতা বা এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে কোনো কোনো ব্যবসায়ীর ছবি রয়েছে। এসব ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে তাদের রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে ভয়ভীতি ও ব্যবসা বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়। এসব বন্ধ করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কারণে বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করা হলে দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এনবিআরের কর্মকর্তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে কাগজপত্র তদারকি করার ক্ষমতা দেওয়ার কারণে তারা যাচ্ছেতাই করছে। নানাভাবে হয়রানি ও অযৌক্তিক ভ্যাট আদায় করা হয়। ভ্যাট আদায়ের নামে এনবিআর কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত রেস্তোরাঁ এবং সড়কের পাশে পরিচালিত খাবারের ব্যবসাকে ভ্যাটের আওতায় আনারও দাবি জানান তারা। রেস্তোরাঁ খাতে বর্তমানে থাকা ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং দুই শতাংশ উৎসে কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সমিতি।
সমিতির অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বয়হীন অভিযান ও অহেতুক জরিমানার কারণে তাদের ব্যবসা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অভিযান পরিচালনার সময় মালিক সমিতির প্রতিনিধিকে সঙ্গে রাখার দাবি জানিয়েছেন নেতারা।
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা বলেন, গো খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে, বর্তমানে কেজি ৮০০ টাকা ছাড়িয়েছে। ব্রাজিল ও আফ্রিকার দেশগুলোতে গরুর মাংসের দাম কম। তাই সীমিত পরিসরে মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়া দরকার। আমদানির সুযোগ তৈরি হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকবে।

আরও পড়ুন

×