ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন

সংসদীয় কমিটির বৈঠক

গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের যৌক্তিকতা এবং গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। আইন অনুযায়ী ২৩ বছরেও জ্বালানির দাম নির্ধারণে গণশুনানিবিষয়ক প্রবিধান তৈরি না হওয়ায় এর কারণ জানতে চেয়েছেন কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৃত উৎপাদনসক্ষমতা যাচাই ও ক্যাপাসিটি চার্জের যৌক্তিকতা নির্ধারণে ফরেনসিক অডিটেরও দাবি জানান তারা। 

গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মন্ত্রণালয়কে। এ সময় মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দুই লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে। 

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলার রায় হয়েছে। পরে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। সেই কমিটির সুপারিশ কী ছিল ও সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে জানাতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের ৩৪ ধারায় বলা আছে, কমিশন শুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করবে। এ জন্য তারা একটি প্রবিধান তৈরি করবে। গত ২৩ বছরে কেন এ প্রবিধান তৈরি করা হলো না– তা বৈঠকে জানতে চেয়েছেন তারা। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেনি। 

নাজিবুর রহমান আরও বলেন, তারা আরও জানতে চেয়েছেন, সম্প্রতি এলপিজি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গণশুনানি করা হয়েছে কিনা। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অগ্রগতি কতটুকু, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি মন্ত্রণালয়।

কমিটির আরেক সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কৌশলগত জ্বালানি ডিজেলের মজুত আছে মাত্র ৩১ দিনের। এটাকে কীভাবে বাড়ানো যায়, তারা সেটা দেখতে বলেছেন। এখন ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে। তারা এ বিষয়ে ফরেনসিক অডিটের কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, রান্নার এলপিজির সিলিন্ডার এখন দুই হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাজারে সরকার অনুপস্থিত, কোনো নজরদারি নেই। তারা সরকারের নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছেন। ভবনের ছাদে ৫০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনায় ১৫০ কোটি টাকার মতো খরচ হওয়ার কথা। কিন্তু সরকারের প্রকল্পে দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকার ওপরে। তারা মন্ত্রণালয়কে আগামী বৈঠকে এ ধরনের প্রকল্পে কোন খাতে কত খরচ ধরা হয়েছে, এর বিবরণ দিতে বলেছেন। 

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকার এই কিছুদিনের মধ্যে ৩২টি গ্যাস কূপ খনন করেছে– এমন অসত্য তথ্য বিটিভি ও বাসসকে ব্যবহার করে প্রচার করা হয়েছে। এগুলো কোথায় তা জানানো উচিত।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভবনের ছাদের সোলার প্যানেল থেকে কতটুকু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, তা আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি। বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনসক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট। আর প্রকৃত উৎপাদন চার থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ছয় হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট, আর প্রকৃত উৎপাদন পাঁচ থেকে ছয় হাজার মেগাওয়াট। তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ছয় হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট আর প্রকৃত উৎপাদন আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট।
কমিটির সভাপতি ও সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) বৈঠকে অংশ নেন।

সংসদ মেডিকেল সেন্টারকে আরও আধুনিকায়ন করার সিদ্ধান্ত
একই দিন সংসদ সচিবালয় মেডিকেল সেন্টারের সেবার মান উন্নতকরণ এবং সেবা সম্পর্কে পরামর্শ ও তদারকিকরণ-সংক্রান্ত কমিটির প্রথম বৈঠকে ওই মেডিকেল সেন্টার থেকে আরও মানসম্মত সেবা ও আধুনিকায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিটির সভাপতি হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে কমিটির সদস‍্য হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া ও ইকরামুল বারী টিপু এমপি সভায় অংশ নেন।
বৈঠকে মেডিকেল সেন্টারের সেবার মান উন্নয়নকল্পে অর্গানোগ্রাম সংশোধন করে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবল বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবার পরিসর বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের 
লক্ষ্যে ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়।

আরও পড়ুন

×