ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগানে উত্তাল জবি, গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগানে উত্তাল জবি, গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
×

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০১:১২

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জকসুর নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘গরু খাওয়ার অধিকার রুখে দেওয়ার সাধ্য কার, দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’, ‘শাহজালালের বাংলায় হিন্দুত্ববাদের ঠাঁই নাই’ এবং ‘হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন গুঁড়িয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘তোমার আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ এবং ‘বিজেপির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগানও দিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভে জকসুর সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটা রবীন্দ্রনাথের বাংলাদেশ নয়, এটা কাজী নজরুল ইসলামের বাংলাদেশ। এটা গৌর গোবিন্দের ভারত নয়, এটা শাহজালালের বাংলাদেশ। শাহজালালের বাংলাদেশে কোনো হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন এ দেশের জনগণ মেনে নেবে না। বাংলাদেশে কেউ হিন্দুত্ববাদী কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চাইলে ১৮ কোটি মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসনিক পদে বসানো হয়েছে। তার অভিযোগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলেও মসজিদে তালা দেওয়া এবং গরু জবাই নিষিদ্ধের বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে প্রশাসন।

তিনি আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ দেশের মানুষ ইসলামপ্রিয় এবং ইসলামকে ধারণ করে। এই মানববন্ধন থেকে আমরা ঘোষণা করতে চাই, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই প্রশাসনকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে।

রিয়াজুল ইসলাম আরও তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে শিক্ষার্থীদের আয়োজনকে ‘মৌলবাদী’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার করার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের মেনুতে নিয়মিত গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎসব আয়োজনের বরাদ্দ ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অনুপাত অনুযায়ী বণ্টন করা।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা স্নাতকজীবনের শেষ পর্যায় উদ্‌যাপন উপলক্ষে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন। রান্নার স্থান ও মন্দিরের জন্য রাখা ইট ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

আরও পড়ুন

×