ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় বাধা বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা

কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় বাধা বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ২৫ পয়সা খরচে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। দেশের ৩১ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৫০ কলেজের ছাদ ব্যবহার করে ১০৩ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনাতেও রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা। তবে এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পথে বড় বাধা অর্থ ফেরত পেতে অনিশ্চয়তা, স্থাপনার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক সমস্যা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত নাগরিক সংলাপে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক গবেষক দল সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবহৃত ছাদে ৫২ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট এবং ১৫০ কলেজের ছাদে ৫১ দশমিক ১২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় আরও ২৪ দশমিক ৬ মেগাওয়াট উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া শৈলকুপায়ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব স্থানে ১৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ৩১ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ২৮৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে ২০ বছরে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। কলেজগুলোর ক্ষেত্রে ২০ বছরের রক্ষণাবেক্ষণসহ ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়বে ৪ টাকা ১৫ পয়সা।
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক সিহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, বর্তমানে উৎপাদনে থাকা সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে এ মূল্য কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, গবেষণাটি সময়োপযোগী। সরকার সৌরবিদ্যুতের প্রসারে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আমদানি শুল্ক কমানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা সামনে আনা হলে বিবেচনা করা হবে। মার্চেন্ট বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ বিষয়ে সচিব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ দাম যৌক্তিক। তবে বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং আমদানি শুল্ক কমানোর ফলে ভবিষ্যতে দাম আরও কমতে পারে।
ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ইউনিটপ্রতি সাড়ে চার টাকার মতো হতে পারে। সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্য জ্বালানি কিনতে হয় না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়া বা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়ার শঙ্কা নেই। এ বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে সামগ্রিক উৎপাদন খরচও কমবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, এখনই বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের জন্য ব্যাটারিতে বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। সঞ্চয়ের দরকার হলে ভোক্তারা নিজেদের উদ্যোগে তা করতে পারেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা থেকেও সরে আসা উচিত। কারণ এসব স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
বেসরকারি বিনিয়োগের ঝুঁকি তুলে ধরে ওমেরা এলপিজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহিম বলেন, নিজের স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বসানো আর অন্যের ছাদে বসানোর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। অন্যের স্থাপনায় কেন্দ্র বসালে এর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ে। বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ও তার চুরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্যের স্থাপনায় বসানো সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা ভাবনার বিষয়।
সংলাপে অন্য উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানান। তাদের মতে, বিনিয়োগ সুরক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিল আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সংলাপ সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির গবেষণা সমন্বয়ক শুভ কিবরিয়া।

আরও পড়ুন

×