ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

শিল্পে গ্যাস সংযোগের অগ্রাধিকার ঠিক করার কমিটিতে ব্যবসায়ীরা

সাত দিনের মধ্যে সুপারিশ

শিল্পে গ্যাস সংযোগের অগ্রাধিকার ঠিক করার কমিটিতে ব্যবসায়ীরা
×
×

ছবি-সংগৃহীত

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৪৪ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অনিশ্চয়তায় পড়ছে নতুন বিনিয়োগও। এ পরিস্থিতিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নতুন গ্যাস সংযোগ ও বিদ্যমান সংযোগের লোড বাড়ানোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণে ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছে সরকার। শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কোন প্রতিষ্ঠানকে আগে গ্যাস সরবরাহ করা যেতে পারে, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে সুপারিশ দেবে কমিটি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত মঙ্গলবারের অফিস আদেশে এ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। এর আগে ৮ অক্টোবর জ্বালানিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় গ্যাস সরবরাহের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও পেট্রোবাংলায় নতুন সংযোগ এবং বিদ্যমান সংযোগের লোড বাড়ানোর জন্য প্রায় দুই হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আবেদন জমা রয়েছে। সরবরাহ কম থাকায় এসব আবেদন নিষ্পত্তি এবং কোন প্রতিষ্ঠান আগে সংযোগ বা বাড়তি গ্যাস পাবে, তা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিজিএমইএর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিকেএমইএর পরিচালক, বিটিএমএর সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব হায়দার এবং বিটিটিএলএমইএর সভাপতি। এ ছাড়া সব গ্যাস বিতরণ ও বিপণন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমিটির সদস্য। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইন্স) সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস সংযোগের বিষয়ে পাওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সাত দিনের মধ্যে সরবরাহের সুপারিশ দিতে হবে। কমিটি সংশ্লিষ্ট এক বা একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

গ্যাসের অনিশ্চিত সরবরাহে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনাও বাধার মুখে পড়ছে। বস্ত্র, স্পিনিং, ডাইং, ওয়াশিং, সিরামিক, ইস্পাত, কাচ, সারসহ গ্যাসনির্ভর শিল্পে পর্যাপ্ত চাপ না থাকলে যন্ত্রপাতি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যায় না। কোথাও উৎপাদন কমাতে হয়, কোথাও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে বাড়তি খরচ গুনতে হয়।

এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং দেশি-বিদেশি বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়। রপ্তানিমুখী শিল্পে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রয়াদেশ হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়। নতুন শিল্প স্থাপনে জমি, অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতিতে বড় বিনিয়োগের পরও গ্যাস সংযোগের নিশ্চয়তা না থাকলে উদ্যোক্তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়েন। একইভাবে বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও পিছিয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, গ্যাসের সীমিত সরবরাহের মধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার নির্ধারণে উৎপাদন সক্ষমতা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক অবদান ও গ্যাসের প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট মানদণ্ড না থাকলে সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তিনি বলেন, শুধু অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে শিল্পের গ্যাস সংকট দূর করা সম্ভব নয়। এ জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি এবং সরবরাহ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। 

আরও পড়ুন

×