ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার আইন সংশোধনে কণ্ঠরোধের আশঙ্কা

সাইবার আইন সংশোধনে কণ্ঠরোধের আশঙ্কা
×
×

ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০১:০৯

সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে কণ্ঠরোধের আশঙ্কা রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী নাগরিকের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়, মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করছে। সংশোধনীর ফলে সাইবার সুরক্ষা আইন আদতে ‘সরকার সুরক্ষা’ আইনে পরিণত হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে "সাইবার সুরক্ষা, না কণ্ঠরোধ? কার স্বার্থে মতপ্রকাশের নতুন সীমা নির্ধারণ ও আইন সংশোধন" শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সাতটি সংগঠন; ভয়েস ফর রিফর্ম, দৃক, নাগরিক কোয়ালিশন, এইচআরএসএস, জেআরএ, ডিএসএ ভিকটিম অ্যালায়েন্স ও বাংলাদেশ আমেরিকা অ্যালায়েন্স।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম। সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর। আলোচনায় অংশ নেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মানবাধিকারকর্মী ও গুম কমিশনের সাবেক সদস্য  ড. নাবিলা ইদ্রিস, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনি হায়দার, অল্টারনেটিভের সংগঠক ডা. তাজনূভা জাবীন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, নাগরিক কোয়ালিশনের হাসিব হোসেন প্রমুখ।

ফাহিম মাশরুর খসড়া সংশোধনীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হ্যাকিং, ফিশিং ও আর্থিক প্রতারণার মতো অপরাধ থেকে নাগরিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু সরকার আওয়ামী লীগ আমলেল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতই এই আইনকে ভিন্নমত পোষণকারী নাগরিকদের অপরাধী বানানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।  

নারী ও শিশুর সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধানগুলো সাইবার আইন থেকে সরিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ডিজিটাল অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন ফাহিম মাশরুর।

আখতার হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী সাইবার সুরক্ষা আইনকে কার্যত সরকার সুরক্ষা আইনে পরিণত করবে।

মনির হায়দার বলেন, কোনো সরকার ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে চাইলে কোনো আইন দিয়েই তাকে ঠেকানো যায় না। বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সীমারেখা অতিক্রমের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণে নিতে বহু বছর লেগেছিল। বর্তমান সরকার তার চেয়ে অনেক কম সময়ে জনগণের কণ্ঠ রুদ্ধ করার পথে এগোচ্ছে। গণভোট সরকারের কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার ঝুঁকিসহ অনেক সমস্যার সমাধান দিতে পারে।

নাবিলা ইদ্রিস সাধারণ নাগরিকদের গ্রেপ্তারের বেশ কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি দেখান, সাইবার আইনের অধীনে কীভাবে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও গ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছেন। নাবিলা জানান, ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর থেকে সাইবার আইনে যত গ্রেপ্তার হয়েছে, তার ৬৩ শতাংশই হয়েছে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা জাতীয় নেতাদের সমালোচনার কারণে। বিদ্যমান আইনে এ ধরনের গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না। তাই সরকার নতুন আইনের আওতায় গ্রেপ্তারের সুযোগ তৈরি করতে সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে।

কামাল আহমেদ বলেন, খসড়া সংশোধনী নিয়ে সরকার মূলধারার গণমাধ্যমের কয়েকটি ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তবে গণমাধ্যম শুধু নিজেদের সুরক্ষা চায় না, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেবল সংবাদমাধ্যমের জন্য নয়, সবার জন্য নিশ্চিত হতে হবে। ফেসবুকে নিজের হতাশা প্রকাশ করায় ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে সম্প্রতি গ্রেপ্তারের ঘটনারও তিনি সমালোচনা করেন।

শহিদুল আলম বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে বিএনপি অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দলটি খুব দ্রুতই রঙ বদলে ফেলেছে। নির্বাচনে যে বিএনপি অংশ নিয়েছিল, আজকের বিএনপি সেই বিএনপি নয়।

আরও পড়ুন

×