ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

প্রফেসর এস এম ফরহাদ স্কলারশিপ

'শুধু পাঠ্যবই নয়, জানতে হবে পৃথিবীকে'

'শুধু পাঠ্যবই নয়, জানতে হবে পৃথিবীকে'
×

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের টাইমস মিডিয়া ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদসহ অতিথিদের সঙ্গে 'প্রফেসর এস এম ফরহাদ স্কলারশিপ-২০২০' প্রাপ্ত দুই শিক্ষার্থী মনীষা সূত্রধর ও সামিন ইয়াসার-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২০ | ১৬:০২

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ বলেছেন, শুধু পাঠ্যবই নয়; জানতে হবে সমাজ, দেশ, পৃথিবীকে। সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। নিজের জন্য যারা বাঁচে, তাদের কেউ মনে রাখবে না। যারা দেশ-সমাজের জন্য আত্মনিবেদন করেছে, যুগ যুগ বেঁচে থাকবে তাদের নাম।

গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে টাইমস মিডিয়া ভবনে 'প্রফেসর এস এম ফরহাদ স্কলারশিপ-২০২০' প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বৃত্তির প্রবর্তক এ. কে. আজাদ। এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ফরিদপুর জেলায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ছাত্রী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মনীষা সূত্রধর এবং সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ছাত্র জিলা স্কুলের সামিন ইয়াসার বৃত্তি পেয়েছে। এক হাজার ১৫০ নম্বরের মধ্যে মনীষা এক হাজার ৭৮ পেয়েছে। সামিন পেয়েছে এক হাজার ৬৫ নম্বর।

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'শতবর্ষী রাজেন্দ্র কলেজ :আমার ভালবাসা'র উদ্যোগে ২০১৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যাপক এস এম ফরহাদের নামে এ বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এ. কে. আজাদের অর্থায়নে তার শিক্ষকের নামে এ বৃত্তি প্রবর্তন করা হয়েছে। মনীষা ও সামিন বৃত্তি পেয়ে বলেছে, তারা অনুপ্রাণিত। তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা।

যার নামে এই বৃত্তি সেই অধ্যাপক ফরহাদ অনুষ্ঠানে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বলেন, বিত্তবানরা সাধারণত নিজের নামে বা বাবা-মায়ের নামে বৃত্তি দেয়। এ. কে. আজাদ শিক্ষকের নামে বৃত্তি প্রবর্তন করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি এ. কে. আজাদের মতো একজন ছাত্রের শিক্ষক হিসেবে গর্বিত, অভিভূত। এ. কে. আজাদ একজন আদর্শ মানুষ। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তিনি এ. কে. আজাদকে অনুসরণ করার উপদেশ দেন। তিনি বলেন, শুধু সর্বোচ্চ নম্বর নয়, আদর্শ মানুষ হতে হবে।

দুই কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থ তুলে দিয়ে এ. কে. আজাদ বলেন, হার্ভার্ড, অক্সফোর্ডের মতো দুনিয়াসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু পাঠ্যপুস্তক পড়লে হবে না। সমাজে অবদান রাখতে হবে। তা হতে পারে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেও। তিনি ঘোষণা দেন, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে সেরা ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে ভর্তি হতে পারলে তাদের শিক্ষাব্যয় বহনে পাশে থাকবে হা-মীম গ্রুপ।

এ. কে. আজাদ জানান, রাজেন্দ্র কলেজে অধ্যয়নরত যেসব শিক্ষার্থী অর্থকষ্টে রয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়াতে চান। ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন কলেজ থেকে পাস করে যেসব দরিদ্র শিক্ষার্থী দেশে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, তাদেরও সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। করোনাকালের পর আগামীতে বড় পরিসরে হবে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন 'প্রফেসর এস এম ফরহাদ স্কলারশিপ পরিচালনা পরিষদ'-এর সভাপতি এবং সরকারের যুগ্মসচিব রেজাউল হায়দার। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, সদস্য আবুল কালাম আজাদ। ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত হন বৃত্তির অন্যতম উদ্যোক্তা অধ্যাপক রানা চৌধুরী।

ভিডিও কলে নিজের কথা, স্মৃতি, অনুভূতি জানান রাজেন্দ্র কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম এ সামাদ। মেলবোর্ন থেকে যুক্ত হন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালেক সুফি। আরও বক্তৃতা করেন সারদা সুন্দরী কলেজের অধ্যক্ষ কাজী গোলাম মোস্তফা, অধ্যাপক আজিজ হাসান, ফরিদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা হাসান, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আখতার প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×