হলি আর্টিসান হামলা মামলার রায় ২৭ নভেম্বর
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৪:৫৪ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৮:৪৮
রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করা হবে। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রোববার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। ওই দিন রায় ঘোষণা হলে তিন বছর আগে সংঘটিত বহুল আলোচিত এ ঘটনায় হওয়া মামলার বিচারের প্রথম ধাপ শেষ হবে।
গত বছর ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (সংশোধনী ২০০৩) ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ এ ট্রাইব্যুনাল। এর পর ৩ ডিসেম্বর মামলার বাদী এসআই রিপন কুমার দাসের জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২০০৯ সালে প্রণীত এ আইনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হত্যার অপরাধ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গোলাম সারওয়ার খান জাকির বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছি। আশা করছি তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। এজন্য তারা খালাস পাবেন।
রোববার আট আসামি নব্য জেএমবির সদস্য আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদুল ইসলাম ওরফে র্যাশ, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর এবং পলাতক দুই আসামি শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দিয়ে তারা সবাই নিজেকে নির্দোষ দাবিতে বেকসুর খালাস প্রার্থনা করে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে চার্জশিটভুক্ত ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ নিহত হন। রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরদিন সকালে যৌথ বাহিনী কমান্ডো অভিযান চালায়। এতে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। তারা হলো- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জিম্মিকে। ৪ জুলাই নিহত পাঁচ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির গত বছর ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। চিহ্নিত বাকি ১৩ জন বিভিন্ন অভিযানে নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এরপর একই বছরের ৮ আগস্ট আট আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। চার্জশিটে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিমের বিরুদ্ধে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, নব্য জেএমবির জঙ্গিরা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে ওই হামলা চালিয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশকে 'অস্থিতিশীল' করা, বাংলাদেশকে একটি 'জঙ্গি রাষ্ট্র' বানানো।
- বিষয় :
- জঙ্গি
- গুলশান
- হলি আর্টিসান
