ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

'পারিবারিক সহিংসতা রোধে চাই সামাজিক শক্তির ব্যবহার'

'পারিবারিক সহিংসতা রোধে চাই সামাজিক শক্তির ব্যবহার'
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২১ | ০৬:২২ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২১ | ০৮:৪৭

পারিবারিক সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কমিটিগুলোকে কার্যকর করা ও সামাজিক শক্তিকে ব্যবহার করে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার নেটজ্‌ পার্টনারশিপ ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড জাস্টিস, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট, ডাসকো ফাউন্ডেশন এবং ডেইলি স্টার আয়োজিত 'নারীর অধিকার রক্ষায় নাগরিক সমাজের ভূমিকা জোরদার' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এমন মতামত দেন।

অনুষ্ঠানে ৪টি জেলার (সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ) নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী শিক্ষক গোলাম সারোয়ার বাল্যবিয়ে ও পারিবারিক নির্যাতন নিরসনে নাগরিক সমাজের ইতিবাচক পদক্ষেপসমূহের একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথাগত সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাঠামো দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন-২০১৭ এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ বাস্তবায়নের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এর বিপরীতে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক ইতিবাচক পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক।

ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ বন্ধে তথ্য কমিশনকে সম্পৃক্ত করতে হবে। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ধর্মীয় অপব্যাখ্যা এখনও নারীকে সম্পত্তি হিসাবে দেখার কথা বলছে। সেই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

পুলিশের যুগ্ম কমিশনার শামীমা বেগম বলেন, কেউ যেকোনো ধরনের নির্যাতন বা বাল্যবিবাহের শিকার হলে সাথে সাথে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সহযোগিতা দেওয়া হবে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রত্যেকটি থানায় বিশেষায়িতভাবে নারী ও শিশুদের জন্য হেল্প ডেস্ক তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে থানাতে অনলাইন জিডি করারও সুযোগ আছে।

ইিউম্যান রাইটস কমিশনের কনসালটেন্ট ড. আবুল হোসেন বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সম্পৃক্ত করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কমিটি না করে যে কমিটিগুলো আছে সেগুলোকে কার্যকর করার উদ্যোগ নিতে রিপোটিং সিস্টেম উন্নয়ন করতে হবে এবং ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের এ বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। 

মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় জরম্নরি। আইন প্রণয়নকারী সংস্থাকে তার যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বাল্যবিবাহের ঝুঁকি কমাতে রাষ্ট্রীয়, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সংগঠিত হবার প্রয়োজন রয়েছে।

সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত বলেন, সরকার যথেষ্ঠ নারীবান্ধব এবং নারীর ক্ষমতায়নে জন্য কাজ করছে। বাল্যবিবাহসহ সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে মানুষের কাছে তথ্যের অভিগম্যতা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকেও উলেতখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। স্থানীয় সরকরকেও এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে। এনজিও ও সিভিল সোসাইটির বাইরে করপোরেট সেক্টরকেও যুক্ত করতে হবে।

এছাড়া বক্তারা বলেন, নারী নির্যাতন নিরসনের নানাবিধ আইন ও নীতিমালা এবং সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ থাকার পরও নির্যাতনের শিকার বেশিরভাগ নারী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি আইনী পদক্ষেপ গ্রহণে নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীকে নিরম্নৎসাহিত করছে। কোনো একটি একক উদ্যোগ নির্যাতন নিরসনে যথেষ্ঠ নয়। এই ভয়াবহ সমস্যা সমাধানে এজন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মধ্যে যেমন সমন্বয় জরম্নরি তেমনি বেসরকারি সংগঠনের সঙ্গেও সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে নির্যাতনের বিরম্নদ্ধে একযোগে কাজ করা দরকার।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নেটজ্‌-এর নির্বাহী পরিচালক ম্যাপ স্টিল। কর্মসূচির পরিচিতি ও অর্জন উপস্থাপন করেন কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সারা খাতুন। সমাপনী বক্তব্য দেন পরিচালক শহীদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

×