‘তালেবানের ক্ষমতা দখলে জঙ্গি সংগঠনগুলোর পুনরুত্থান ঘটবে’
আলোচনা সভায় বক্তারা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২১ | ১০:২৪ | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২১ | ১০:৫৬
আফগানিস্তানে সম্ভাব্য তালেবান দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, দেশটিতে তালেবানরা ক্ষমতা দখল করলে জঙ্গি সংগঠনগুলোর পুনরুত্থান ঘটবে। তাদের ক্ষমতা দখল উপমহাদেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকির কারণ হবে। শনিবার ‘আফগানিস্তানে আসন্ন তালেবান ক্ষমতা দখলের পরিণাম’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি অনলাইনে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
পশতুন নেতা ফজল-উর রেহমান বলেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। তালেবান পুনরায় কাবুল দখল করলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে এবং এ অঞ্চলে ইসলামী জঙ্গিবাদ ও উগ্রপন্থিদের উত্থান ঘটবে। তারা ভারতীয় কাশ্মীর অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে এবং এর ফলে ৯০-এর দশকের মতো বাংলাদেশে পুনরায় জঙ্গি সংগঠনগুলোর পুনরুত্থান ঘটবে।
সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘আফগান ইন্টেলেকচুয়ালস গ্লোবাল কমিউনিটি’ এর সভাপতি ড. শাহী সাদাত, ব্রাসেলসের সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য পাওলো কাসাকা, সুইডেনের উপসালা ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাটর্নি মোনা স্ট্রিন্ডবার্গ, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিনিধি পশতুন নেতা ফজল-উর রেহমান আফ্রিদি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, নিরাপত্তা বিশ্নেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুর রশিদ।
এতে আরও বক্তব্য দেন ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা কলামিস্ট জুলিয়ান ফ্রান্সিস, ভারতের দৈনিক পাইওনিয়ারের উপদেষ্টা সম্পাদক হিরণ্ময় কার্লেকার, পাকিস্তানের মানবাধিকার নেত্রী তাহিরা আবদুল্লাহ, যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ল্ড সিন্ধি কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ড. লাকুমাল লুহানা, যুক্তরাজ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্নেষক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, নির্মূল কমিটির সর্ব ইউরোপীয় শাখার সভাপতি তরুণ কান্তি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আনসার আহমদ উল্লাহ ও জাতিসংঘের শিশু অধিকার সম্পর্কিত কমিটির সদস্য ফয়সাল হাসান তানভীর।
শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের কারণে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমাদের বিশ্বাস এর ফলে আফগানিস্তানের মানুষের জীবন ও জীবিকার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি বিপন্ন হবে। আমরা আফগানিস্তানে আগের তালেবান শাসনকালে মানবসভ্যতার নিদর্শন ধ্বংস, নির্বিচার হত্যাকাণ্ড, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিশেষভাবে বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, নারী ও শিশুদের ভয়ঙ্কর অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছি।’
সাবেক এমইপি পাওলো কাসাকা বলেন, আফগানিস্তানে তালেবান শাসন দেশটির জনগণ, বিশেষ করে আফগান নারীদের স্বাধীনতা খর্ব করেছে। তালেবান দেশটিকে ৯/১১-এর জঙ্গি হামলার মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত করেছে। বিশ বছর পরও তালেবানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই।
সম্পাদক হিরণ্ময় কার্লেকার বলেন, তালেবান সম্পর্কে কারও ভ্রান্ত ধারণা থাকা উচিত নয়। তারা ইসলাম সম্পর্কে বিকৃত ধারণা পোষণ করে এবং সারাবিশ্বে শরিয়া আইন কায়েম করার অঙ্গীকারবদ্ধ একটি জিহাদি দল। আফগানিস্তানে তারা ক্ষমতায় এলে বিশ্বের কোথাও কেউ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে না। আফগানিস্তান পুনরায় বিশ্বব্যাপী জিহাদের চারণক্ষেত্রে পরিণত হবে।
কলামিস্ট জুলিয়ান ফ্রান্সিস বলেন, ৯/১১-এর ধ্বংসযজ্ঞের পর গত ২০ বছরে আফগানিস্তানে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে, বিশেষ করে নারীদের সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে। তালেবানি পশ্চাৎপদ শক্তিগুলো আফগানিস্তানে পুনরায় আধিপত্য বিস্তার করলে দক্ষিণ এশিয়ায় আরও বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী অনুপ্রাণিত হতে পারে। ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, আফগানিস্তানকেন্দ্রিক ভবিষ্যৎ সংকট নিয়ে আমাদের এখনই মনোযোগী হতে হবে। এটা কোনো একক রাষ্ট্রের মাথা ব্যথার বিষয় নয়।
- বিষয় :
- তালেবান
- দখলদারিত্ব
- ভার্চুয়াল সভা
