ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

অবশেষে রাজাকারের তালিকা স্থগিত, নতুন তালিকা ২৬ মার্চ

অবশেষে রাজাকারের তালিকা স্থগিত, নতুন তালিকা ২৬ মার্চ
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৫:১৩ | আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:১৩

দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রাজাকারসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকেও তালিকাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। আগামী ২৬ মার্চ সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর গত রোববার প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সরকার ঘোষিত স্বাধীনতাবিরোধীদের ওই তালিকায় গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও সংগঠকের নাম আসায় ক্ষোভ আর সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়। মুখোমুখি অবস্থান নেয় স্বরাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা থাকা প্রসঙ্গে মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, 'স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাই প্রকাশ হয়েছে।' স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, 'আমাদের তথ্য অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ হয়নি।' এরই মধ্যে বুধবার দুপুরে স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা যাচাই-বাছাই ও সংশোধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের কথা জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিকেলেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তালিকা স্থগিত করে। বিভ্রান্তিকর তালিকা স্থগিত করা হলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানের ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর মধ্যে এখনও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে, বুধবারও মানিকগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের এক অনুষ্ঠানে রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা থাকা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। তালিকায় ত্রুটির কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি-জামায়াত সরকার ৩০ বছর ক্ষমতায় ছিল। এ সময়ে তারা হয়তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাখা কাগজপত্র কারসাজি করে রাজাকারদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম লিখে রেখেছে। এটা আমাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। এ কারণে ভুলটা হয়েছে।' সমকালের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, তালিকা প্রকাশের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ ছিল। সেটি কেন প্রশ্নবিদ্ধ হলো, খুঁজে দেখব। মুক্তিযোদ্ধাদের নাম স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় বিএনপি-জামায়াত জোটের সময় যুক্ত হয়েছে, না পরে হয়েছে- তা খতিয়ে দেখা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সচিবালয়ে তার দপ্তরে সাংবাদিকদের জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা প্রকৃতপক্ষে কোনো রাজাকার, আলবদর বা আলশামসের তালিকা নয়। এটা ছিল ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালে দালাল আইনে দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের তালিকা। তিনি বলেন, এ ঘটনায় একজন মন্ত্রী হিসেবে নিজেও আহত হয়েছি। এটা দুঃখজনক। তবে আমাদের মন্ত্রণালয়ের কোনো ভুল থাকলে তা তদন্ত করা হবে। যারা ভুল করেছে, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এর আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তালিকা প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন।

১০ হাজার ৭৮৯ জনের তালিকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান, পাকিস্তান মুসলিম লীগের চেয়ারম্যান ময়মনসিংহের নুরুল আমিন, আইয়ুব সরকারের মন্ত্রী বাগেরহাটের খান এ সবুর, জামায়াতের আমির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোলাম আযম, আইয়ুব সরকারের সাবেক স্পিকার চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের (ফকা) চৌধুরীসহ আরও অনেক চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধীর নাম উঠে আসে। কিন্তু তালিকায় গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকের নামও পাওয়া যায়। তাদের অনেকে নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

×