বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগ
অভিযুক্ত বাসচালক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০২:৪৫ | আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৩:২৮
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত।
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন থেকে ভাড়া করা ৯ নম্বর বাসে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ১২টায় ক্যাম্পাস থেকে শহরে যাওয়ার বাসে উঠেন। বাসে উঠে বসার পরে ঘুমিয়ে যান তিনি। ঘুম ভাঙ্গার পর ওই শিক্ষার্থী দেখেন বাস নির্দিষ্ট সময়ের আগে বেলতলী বিশ্বরোড এলাকায় চলে আসে। বাস চালক ও তার সহকারী ছাড়া বাসে কেউ ছিল না। বাস কোথায় যাচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে চালকের সহকারী বলেন, বেলতলিতে একটা বাস নষ্ট হয়ে আছে সেখানে যাচ্ছি। আবার ক্যাম্পাসে ফিরে যাব, ১২টায় শহরে যাব।
পরে বাসটি গ্যাস নিয়ে শহরে যাবে বলে একটি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে যায়। বাসচালক তখন বলেন, আমাদের দেরি হবে আমরা ১টায় ক্যাম্পাসে ফিরবো, শহরে যাবো ২টার দিকে।
তারপর তিনি (বাসচালক) আবার বলেন, আপনাদের তো কাল থেকে ক্যাম্পাস বন্ধ। অনেক বিভাগ কক্সবাজার ট্যুরে যাবে। আপনি যাবেন?
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যাবে না বললে বাসচালক আবার বলেন, আমি যাব যাওয়া-আসা ফ্রি, থাকা খাওয়া শুধু নিজের। ২-৩দিন থাকব। আপনি গেলে তো আপনার সঙ্গে দেখা হবে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বাসচালক আমার কাছে ফোন নম্বর চায়। আমি ফোন নম্বর দিতে অপরাগতা প্রকাশ করি।
এরপর চালক দাঁড়িয়ে সহকারীকে টি শার্ট বুকের উপর তুলে বলেণ, পেট খালি পেটে কিছু নাই বলে। শিক্ষার্থীকে আবার বলেন দেখেন ওরা আমার পেটকে হিংসা করে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, 'আমি তখন বাস থেকে নেমে যাই। চালক তখন পেছনে এসে আবারও নম্বর চান। আর বলেন, আমার তো ইচ্ছা করছে আমি একাই আপনাকে শহরে নিয়ে যাই।'
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। বাসে শিক্ষার্থীকে হয়রানির প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরমুখী বাস বন্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর লিখিত দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, এই ধরনের ঘটনার শিকার যাতে আর কাউকেই হতে না হয় তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিআরটিসির বাসচালক খোকা বলেন, আমাদের বিআরটিসি বাস কক্সবাজার যায়। কখনও যদি (উনি) যায়, আমরা চালক হিসেবে যাই একথা বলেছি। কিন্তু তাকে যেতে বলিনি।
শার্ট বুকের উপরে উঠিয়ে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অন্য একজনের সঙ্গে দুষ্টুমি করেছি।
প্রক্টর ড. কাজী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত তাকে আটক করা হবে।
