বৃষ্টির আগেই ফের শৈত্যপ্রবাহ, উত্তরে শীতের কাঁপন
কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজশাহীর অকটর মোড় এলাকা -সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:০৩
শীতের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে দেশ। বৃষ্টির পর রোববার মৌসুমের দ্বিতীয় শৈত্যপ্রবাহ শুরুর আভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহ নামল বৃষ্টির আগেই। বুধবার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। দেশের সর্ব উত্তরের এ জেলায় তাপমাত্রার পারদ নেমে আসে ৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের পাশাপাশি টাঙ্গাইল ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ।
ঘন কুয়াশার কারণে বুধবারও রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ছিল। ব্যাহত হয়েছে ফেরি চলাচল। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে বাড়ছে জনদুর্ভোগও। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে। বৃষ্টি শেষে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে শৈত্যপ্রবাহ অন্যান্য এলাকায় বিস্তার লাভ করতে পারে। শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে বোরো ধানের বীজতলায় ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এদিকে, রাজধানীতে গত তিনদিন ধরে দিনের কিছু সময় সূর্যের দেখা মিললেও ঘন কুয়াশা পুরোপুরি কাটেনি। বুধবারও দুপুরের পর থেকে আকাশ ছিল কুয়াশায় ঢাকা। এ দিন ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের তীব্রতায় রাজধানীতেও জনজীবনে প্রভাব পড়েছে।
ঘন কুয়াশার কারণে মঙ্গলবার রাত দেড়টা থেকে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিনিয়র এয়ার ট্রাফিক অফিসার এস এম ওহিদুর রহমান। তিনি বলেন, গালফ এয়ার ও বাংলাদেশ বিমানের কয়েকটি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে কলকাতায় চলে যায়। এ ছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দু'টি ফ্লাইট অবতরণ করে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। রাতে যেসব ফ্লাইট ঢাকা ছাড়তে পারেনি, সেগুলো গতকাল সকাল সাতটার পর উড্ডয়ন করে।
উল্লেখ্য, তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল গত বছরের ৮ জানুয়ারি। সেদিন সেখানে তাপমাত্রা নেমে আসে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্র রেকর্ড করা হয় ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এবার পৌষের চতুর্থ দিনেই মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। ২২ ডিসেম্বর থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। গত সোম ও মঙ্গলবার সূর্যের হাসি শীতার্ত মানুষের মনে এনে দেয় খানিকটা স্বস্তি। যদিও আবহাওয়াবিদরা আভাস দিয়েছিলেন, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর হালকা বৃষ্টির পর ২৮ তারিখ থেকে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলো তার আগেই।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, একদিনের ব্যবধানে পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা কমে গেছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহে এখানকার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গতকাল সকাল ৯টার পর সূর্য উঁকি দিলে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে। তবে উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে কনকনে শীতের অনুভূতি ছিল। এতে ছিন্নমূল মানুষ ও নিম্নআয়ের লোকজন বেকায়দায় পড়েছেন।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, হিমালয়ের অদূরের জেলা দিনাজপুরে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এখানে গতকাল ছিল দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এতে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ। তবে সকাল থেকে সূর্য কিরণ ছড়ানোয় কিছুটা স্বস্তি ছিল।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক তোফাজ্জল হোসেন জানান, বুধবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও কয়েকদিন উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
খুলনা ব্যুরো জানায়, প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ঘন কুয়াশা দুর্ভোগ বাড়িয়েছে খুলনার ঘরমুখো যাত্রীদের। গত দু'দিন ধরে ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চল থেকে কোনো যানবাহনই সময়মতো খুলনায় পৌঁছাচ্ছে না। ফেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। খুলনা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ ছাড়া খুলনা নদীবন্দর এলাকায় অলস বসে আছে বিভিন্ন রুটের লঞ্চ।
খুলনা জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, খুলনায় বৃহস্পতিবার বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- বিষয় :
- শীত
- শৈত্যপ্রবাহ
- আবহাওয়া
