ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

নতুন বছরের প্রথম দিনে দেশে জন্ম নেবে ৮ হাজারেরও বেশি শিশু

নতুন বছরের  প্রথম দিনে দেশে জন্ম নেবে ৮ হাজারেরও বেশি শিশু
×

ছবি: ইউনিসেফ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৩:৫৮ | আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৪:১৬

নতুন বছরের প্রথম দিনে বিশ্বজুড়ে জন্মগ্রহণ করা আনুমানিক ৩ লাখ ৯২ হাজার ৭৮ জন শিশুর মধ্যে ৮ হাজার ৯৩ জন শিশুর জন্ম হবে বাংলাদেশে। 

মঙ্গলবার জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘নতুন একটি বছর এবং নতুন একটি দশকের সূচনা কেবল আমাদের ভবিষ্যতের জন্য নয়,  আমাদের পরে যারা আসবে তাদের ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষাগুলো প্রতিফলিত করার সুযোগ।’ 

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ ফিজিতে খুব সম্ভবত ২০২০ সালের প্রথম শিশুটির জন্ম হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হবে শেষ শিশুটির জন্ম। 

বিশ্বব্যাপী জন্মগ্রহণ করা শিশুদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিশুর জন্ম হবে আটটি দেশে:  ভারতে ৬৭,৩৮৫ জন, চীনে ৪৬,২৯৯ জন, নাইজেরিয়ায় ২৬,০৩৯ জন, পাকিস্তানে ১৬,৭৮৭ জন, ইন্দোনেশিয়ায়  ১৩,০২০ জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  ১০,৪৫২ জন, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ১০,২৪৭ জন এবং ইথিওপিয়ায় ৮,৪৯৩ জন। 

প্রতি জানুয়ারিতে নববর্ষের দিনটি বিশ্বজুড়ে শিশু জন্মগ্রহণের জন্য একটি শুভ দিন, যে দিনে ইউনিসেফ শিশুদের জন্ম উদযাপন করে। তবে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ নবজাতকের জন্য তাদের জন্মের এই দিনটি খুব একটা শুভ হয়ে দেখা দেয় না। ২০১৮ সালে ২৫ লাখ নবজাতক তাদের জীবনের প্রথম মাসেই মৃত্যুবরণ করে। এদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ তাদের জীবনের প্রথম দিনেই মারা যায়। এই শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রতিরোধযোগ্য কারণ যেমন অপরিপক্ক অবস্থায় জন্মগ্রহণ, প্রসবের সময় জটিলতা ও সেপসিসের মতো সংক্রমণে মারা যায়। এ ছাড়াও প্রতি বছর ২৫ লাখেরও বেশি শিশু মৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে। গত তিন দশকে বিশ্বজুড়ে শিশুদের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে এবং বিশ্বজুড়ে পঞ্চম জন্মদিনের আগেই মৃত্যুবরণ করা শিশুদের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। তবে নবজাতকদের ক্ষেত্রে অগ্রগতির মাত্রা বেশ ধীর। ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী যত শিশুর মৃত্যু হয়েছে তাদের ৪৭ শতাংশই মারা গেছে তাদের জন্মের প্রথম মাসে, ১৯৯০ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। 

ইউনিসেফের এভরি চাইল্ড এলাইভ প্রচারাভিযান যথাযথ প্রশিক্ষণসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের পেছনে জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান জানায়, যারা গর্ভাবস্থা, প্রসব এবং জন্মকালীন জটিলতাগুলো প্রতিরোধে ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং প্রত্যেক মা ও শিশু যাতে একজোড়া নিরাপদ হাতের যত্নে থাকে তা নিশ্চিত করা জন্য সঠিক ওষুধ নিয়ে তৈরি থাকেন। 

ফোর আরও বলেন, ‘বেশি সংখ্যক মা ও নবজাতক প্রশিক্ষিত এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম নিয়ে তৈরি থাকা ধাত্রী বা নার্সের যত্ন পায় না এবং এর ফলাফল খুবই ভয়াবহ। যদি প্রতিটি শিশুর জন্ম এক জোড়া নিরাপদ হাতের তত্ত্বাবধানে হয় তাহলে আমরা এটা নিশ্চিত করতে পারবো যে, লাখ লাখ শিশু তাদের জন্মের প্রথম দিন বেঁচে থাকতে পারবে এবং এই দশক ও তার পরেও অনেক বছর বাঁচতে পারবে ।’ 

আরও পড়ুন

×