পিরোজপুরে ৫ বছরের শিশু, ভোলায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা ধর্ষণের শিকার
প্রতীকী ছবি
ভোলা ও নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ২১:০২
পিরোজপুরের নাজিরপুরে মাত্র পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ভোলার সদর উপজেলায় ৬০ বছরের এক বিধবা বৃদ্ধা নিজ ঘরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় উভয় ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নাজিরপুরের ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযুক্ত কিশোর ও তার সহযোগী শিশুটিকে ডেকে তার নানার বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই সময় ঘরে কেউ না থাকায় সহযোগীকে বাইরে পাহারায় রেখে কিশোর শিশুটিকে ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে বললে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোস্তফা কায়সার জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাজিরপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, মৌখিক অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলায় নিজ ঘরে ধর্ষণের শিকার বৃদ্ধা
ভোলার পৌর শহরের চরনোয়াবাদ এলাকায় নিজ ঘরে ৬০ বছরের এক বিধবা বৃদ্ধা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, অভিযুক্ত সজিব তেলি (২৪) বৃদ্ধার ছেলের বউয়ের ভাই। আত্মীয়তার সুবাদে ওই বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। শনিবার রাতে সজিব ওই বাড়িতেই ছিল। রাতে বৃদ্ধা, তার পুত্রবধূ ও সজিব আলাদা আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান। ভোররাতের দিকে সজিব ওই বৃদ্ধার কক্ষে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। আজ রোববার সকালে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযুক্ত সজিব পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিখোলা এলাকার শ্রী সুমঙ্গল তেলির ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও উচ্ছৃঙ্খলতার অভিযোগ রয়েছে।
ভোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি কনসালটেন্ট ডা. সুরাইয়া ইয়াসনুর জানান, বৃদ্ধার জরায়ু ছিঁড়ে গেছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তিনি মারাত্মক রক্তশূন্যতা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন। তাকে ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর খোঁজ নিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতকে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভোলা সদর থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
