খাদ্যে ভেজাল বন্ধ হলে অভিযানও বন্ধ হবে: খাদ্যমন্ত্রী
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২১ | ১০:৪০ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২১ | ১০:৪০
খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করলে দেশে ভেজালবিরোধী অভিযানও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে 'নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ ও বিধি-প্রবিধি সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম' শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, হোটেল-রেস্তোরাঁয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ১২টি সংস্থা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করছে। অনভিজ্ঞ কর্মকর্তারা আইন না বুঝেও জরিমানা করছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ইমরান হাসানের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা সবাই প্রতিজ্ঞা করেন- পচা-বাসি খাবার বিক্রি করবেন না। জনগণকে ভেজালযুক্ত খাবার পরিবেশন করবেন না। তাহলে কোনো সংস্থা অভিযানে যাবে না। জরিমানাও করবে না।'
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাবার নিশ্চিত হলেই একটি সুস্থ-সবল, কর্মঠ এবং মেধাবী জনগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব হবে। সে লক্ষ্যেই ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয় নিরাপদ খাদ্য আইন, যা ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, খাদ্যের ভেজাল নিরূপণে নারায়ণগঞ্জে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া দেশের ৮টি বিভাগে ৮টি আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের কাজ চলছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ মামুন। এতে তিনি বলেন, অনিরাপদ খাদ্যের কারণে ডায়রিয়া, ক্যান্সারসহ প্রায় ২০০ ধরনের রোগ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২০ সালের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি ১০ জনে ১ জন অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন। সেমিনারে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বলেন, খাদ্যকে নিরাপদ করতে সমন্বিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। নিরাপদ খাদ্যের তাগিদে ভালো কৃষিচর্চার পাশাপাশি প্রযুক্তির কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সারা পৃথিবীই এখন সজাগ। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে খাবার টেবিলে আসা পর্যন্ত খাবারটি নিরাপদ কিনা, খেয়াল রাখতে হবে। নিরাপদ খাদ্য আইনের ভাষা সহজ করতে হবে। জনসচেতনতায় সারাদেশে ৪৯২টি নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাইউম বলেন, খাদ্য যেন নিরাপদ হয় সে লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
