ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সিসিইউতে ভর্তি, বোর্ডের দু'দফা বৈঠক

খালেদার সমস্যা 'গভীরে', বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ

খালেদার সমস্যা 'গভীরে', বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ
×

খালেদা জিয়া

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০২১ | ২০:২৮

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাকে শনিবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ঠিক কোন পর্যায়ে অবনতি হয়েছে, তা বিশ্লেষণে গতকাল রোববার দু'দফা বৈঠক করেছে মেডিকেল বোর্ড। বৈঠকে বিদেশি কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। বোর্ডের চিকিৎসক সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শরীরিক সমস্যা 'অনেক গভীরে'। তার শরীরে বেশ কিছু জটিল সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে তার লিভার, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা বেশ প্রকট। এখানকার হাসপাতালে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। মেডিকেল বোর্ড যত দ্রুত সম্ভব খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বোর্ডের এমন মতামতের পর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে নিতে আবারও সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শনিবার রাতে ও রোববার বিকেলে বৈঠক করে ১০ সদস্যের ওই বোর্ড।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) এখন সিসিইউতে আছেন। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ। মেডিকেল বোর্ডও তাকে দ্রুত বিদেশে আধুনিক ও বহুমুখী সেবা দেওয়ার মতো হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছে।

ব্যক্তিগত আরেক চিকিৎসক জানান, সব দিক থেকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর খালেদা জিয়ার এন্ডোস্কপি করা হয়। পরে রাতেই তাকে কেবিন থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। তার ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য এরই মধ্যে তাকে রক্ত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কিডনির ক্রিয়েটিনিন বর্ডার লাইন ক্রস করেছে। শরীর প্রচণ্ড দুর্বল। খাওয়া-দাওয়ার রুচিও কম। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

মেডিকেল বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ক্রনিক কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি প্রস্রাব ধরে রাখতে পারছেন না এবং প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে। হৃদযন্ত্রের স্পন্দন অনিয়মিত হওয়ায় অস্বাভাবিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন তিনি। ক্রনিক লিভার সমস্যায় তার লিভার প্রতিস্থাপনের আগাম পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।

এর আগেই মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার ক্যান্সারের শঙ্কাও ব্যক্ত করেছিল। বোর্ড খালেদা জিয়ার ক্যান্সার মার্কার উত্তরোত্তর বেড়ে চলছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছিল। তার পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাসও রয়েছে উল্লেখ করে এ সমস্যা গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় আনা উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছিল বোর্ড। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ায় খালেদা জিয়ার বায়োপসি পরীক্ষা করা হয়েছে। অবশ্য রিপোর্টে কী আসছে- তা প্রকাশ করবেন না বলে জানিয়েছেন বোর্ডের চিকিৎসকরা।

এ বিষয়ে গতকাল খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের কয়েকজন চিকিৎসক সমকালকে জানিয়েছেন, রোগের বিষয়টি একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিকে চিকিৎসা করাতে দেখেছি। কিন্তু কারও শারীরিক সমস্যাগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সমকালকে বলেছেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তার পরিবার ও দল থেকে বারবার সরকারের কাছে আবেদন করার পরও তাকে বিদেশে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়ে এখন জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে সরকার, যা অত্যন্ত দুঃখজনক- দেশের জনগণ এই সরকারকে ছাড়বে না।

গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিদেশে গিয়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)।

মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে আবারও শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা। ২৬ দিন চিকিৎসা শেষে গত ৭ নভেম্বর গুলশানের বাসায় ফিরেছিলেন ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া।

আরও পড়ুন

×