ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

দুই মাসে ভারত থেকে এসেছে ৪৪৫ বাংলাদেশি: বিজিবি প্রধান

দুই মাসে ভারত থেকে এসেছে ৪৪৫ বাংলাদেশি: বিজিবি প্রধান
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২০ | ০৫:৩৮ | আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২০ | ০৮:১২

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভারতে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন হওয়ার পর গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেশটি থেকে সীমান্ত দিয়ে ৪৪৫ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং তাদের সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত ২৫-৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোনো উদ্বেগ নেই জানিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, সীমান্ত সম্মেলনে দুই পক্ষের মধ্যে এনআরসি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে কাউকে ঢুকতে বা যেতে দেওয়া হবে না, যা বিজিবির নিয়মিত দায়িত্ব।

তিনি জানান, গত দুই মাসে ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় আটক সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এলাকার জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে যাচাই করে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিজিবি প্রধান জানান, গত এক বছরে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা ৬০৬ পুরুষ, ২৫৮ নারী, ১৩৫ শিশু ও তিন মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে নভেম্বরে ৩১২ ও ডিসেম্বরে ১৩৩ জন এসেছেন। তারা সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে আসেন। কাজের সন্ধানে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিলেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ২৫৩টি মামলা হয়েছে।

এনআরসি ও সিএএ-এর প্রভাবে সীমান্ত দিয়ে একসঙ্গে প্রচুর মানুষ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি গুলি চালাবে কি-না জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে বিজিবি কখনও আগে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে না। দেখা গেছে, চোরাকারবারিদের হামলায় বিজিবি সদস্যরা হতাহত হয়েছেন। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে বিজিবি গুলি করেছে। সীমান্তে চূড়ান্তভাবে আক্রান্ত না হলে ও আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া বিজিবি কখনো গুলি করে না।

সীমান্তে বিএসএফের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার কথা থাকলেও কয়েক বছরের তুলনায় গত বছর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিজিবির হিসাবে এর সংখ্যা ৩৫। বিএসএফের হিসাবে তা আরও কম। নিহত সবাই বাংলাদেশি। এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ভারতের কাছে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএসএফ প্রধানকে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এ ব্যাপারে তারা আরও সজাগ ও সতর্ক থাকবেন।

বিজিবি মহাপরিচালক জানান, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির আধুনিকায়নের কাজ চলছে। ইউক্রেন থেকে অত্যাধুনিক ১৪টি অস্ত্র কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া দুটি হেলিকপ্টার কেনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ১৭ জানুয়ারি দেশে আসবে। জলপথে টহলের জন্য দুটি স্পিডবোটও কেনা হচ্ছে। ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে পদ্মা ও নাফ নদীতে স্পিডবোট দিয়ে টহল দেওয়া হবে। সেন্টমার্টিন দ্বীপও এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২৭৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সীমান্তের কিছু স্থানে এমনই অদ্ভূত চিত্র যে, একই বাড়ির এক ঘর পড়েছে বাংলাদেশে, আরেকটি ঘর ভারতে। দুই অংশেই তাদের আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। এ কারণে নানা উপলক্ষে তারা সীমান্ত অতিক্রম করেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি প্রস্তাব দিয়েছেন- পাসপোর্ট ছাড়াই তারা ৪৮ বা ৭২ ঘণ্টার জন্য বিশেষ পাস দেবেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির গুলিতে কিশোরসহ তিনজন নিহতের ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নিয়ে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে ফেনসিডিল ও ইয়াবার কারখানা থাকার বিষয়টি সীমান্ত সম্মেলনে উত্থাপন করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, ভারত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

আরও পড়ুন

×