রাবিতে বিশেষ বিবেচনায় তিনজনের ভর্তির সুযোগ
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:১৩
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশেষ বিবেচনায় তিন শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দিয়েছে প্রশাসন। তাদের মধ্যে একজন ভর্তি পরীক্ষায় পাসই করতে পারেননি। তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সদস্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একাডেমিক শাখা থেকে পাঠানো পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে ভর্তি উপ-কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনজনকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ বিবেচনায় নার্গিস খাতুন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা, আশিকুর রহমান মার্কেটিং এবং রিন্টু তঞ্চঙ্গ্যা ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তিনজনই 'বি' ইউনিটের অধীনে ভর্তি পরীক্ষা দেন। তাদের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন নার্গিস। ১৩৬৭২ রোলধারী নার্গিস এমসিকিউতে ২১ পাওয়ায় নীতিমালা অনুযায়ী লিখিত খাতা মূল্যায়নের যোগ্য হননি।
আরেকজন আশিকুর রহমান (রোল-১৪১৪৮) এমসিকিউতে ৩৪ ও লিখিত পরীক্ষায় ৭.৫০সহ মোট ৪১.৫০ পেয়ে পাস করেছেন। তবে মেধা তালিকায় তিন হাজার ৮৮৩তম স্থান লাভ করায় বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণের যোগ্য হননি। তৃতীয়জন রিন্টু তঞ্চঙ্গ্যা (ভর্তি রোল-১৪৫২৪) এমসিকিউতে ৩৩ ও লিখিত পরীক্ষায় ১৬সহ মোট ৪৯ পেয়ে পাস করেছেন। তবে মেধা তালিকায় ২৪১৯তম স্থানে থাকায় তিনিও বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণের যোগ্য হননি।
ভর্তি পরীক্ষা কমিটির একাধিক সূত্র জানায়, রিন্টু তঞ্চঙ্গ্যা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী কোটায় ভর্তি হয়েছেন। তবে ফরম পূরণের সময় ভুলবশত কোটা নির্বাচন করেননি। পরে উপ-কমিটির সিদ্ধান্তে তাকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া, নার্গিস অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড় হওয়ায় তাকে বিশেষ বিবেচনায় ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে তিন হাজার ৮৮৩তম হয়েও আশিকুর রহমান কোন বিবেচনায় ভর্তি হয়েছেন, সেটি জানা যায়নি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, স্নেহা তেরেসা বকশী নামের আরেক শিক্ষার্থী এমসিকিউতে ৩৬ এবং লিখিত অংশে ১৬সহ মোট ৫২ নম্বর পেয়ে পাস এবং তিনি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী কোটায় আবেদনও করেছেন। কিন্তু তিনি ভর্তির সুযোগ পাননি। ভর্তি পরীক্ষায় ৮১৯৫৯ রোল নম্বরধারী স্নেহা উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ বিষয়ে 'বি' ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক একে শামসুদ্দোহা বলেন, বিশেষ বিবেচনার উপযোগী বলেই উপ-কমিটির সিদ্ধান্তে তিনজন ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামের স্বার্থে এক শিক্ষার্থীকে বিশেষ বিবেচনায় ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি ভর্তি কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্য দু'জনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা নেই বলে জানান তিনি।
