ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বাজেটে সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি

বাজেটে সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৮:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে অন্তত ১ শতাংশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংস্কৃতিকর্মী, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও গবেষকরা। একই সঙ্গে সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে ঘোষিত ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আলোচকরা।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চলচ্চিত্র সংসদকর্মী মোহাম্মদ নূরউল্লাহ। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা দেশের সৃজনশীল শিল্প খাতের জন্য একটি ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। 
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি খাতের জন্য ৩০০ কোটি টাকার প্রত্যক্ষ সরকারি বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলসহ মোট ৮০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা তরুণ সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। 

মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৮২৬ কোটি টাকা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জন্য এক হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। 
নূরউল্লাহ বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও প্রগতিবিরোধী সামাজিক প্রবণতা মোকাবিলায় শিল্প-সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করা সময়ের দাবি। অথচ এ বিষয়ে বাজেটে কোনো সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা বিশেষ বরাদ্দের উল্লেখ নেই।

বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি জহিরুল ইসলাম কচির লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সহসভাপতি আকতানিন খায়ের তানিন। বক্তব্যে বলা হয়, প্রস্তাবিত ৮০০ কোটি টাকার সৃজনশীল অর্থনীতি তহবিলের ধারণা ইতিবাচক হলেও এর আর্থিক ভিত্তি ও কাঠামো নিয়ে কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন রয়েছে। কারণ ঘোষিত অর্থের মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা সিএসআর তহবিলের ওপর নির্ভরশীল, যা স্বভাবতই অনিশ্চিত ও স্বেচ্ছামূলক। পাশাপাশি চলচ্চিত্র, ওটিটি, অ্যানিমেশন, গেমিং, সংগীত, প্রকাশনা ও অন্যান্য সৃজনশীল উপখাতে এই তহবিল কীভাবে বণ্টন করা হবে, সে সম্পর্কেও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়নি।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর চলচ্চিত্র, চারুকলা ও গবেষণা বিভাগের সম্পাদক সজীব তানভীর, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক নারগিস আক্তার, চলচ্চিত্র প্রযোজক শাহরিন সুমি প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান।

আরও পড়ুন

×