ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আয়োজন

ওপেন ওয়ার্ল্ড অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের সাফল্য

ওপেন ওয়ার্ল্ড অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের সাফল্য
×

শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য উৎসাহিত করেছে অন্য সবাইকে

সাফিন আসিফ

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | ১০:১৫

রাশিয়ার সোচি শহরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চতুর্থ ওপেন ওয়ার্ল্ড অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দল অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বের ২০টি দেশের ৯০ জন প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ৬ জন প্রতিযোগী জয় করেছে একটি স্বর্ণপদক, দুটি রৌপ্যপদক, একটি ব্রোঞ্জ ও সম্মানসূচক স্বীকৃতিসহ মোট পাঁচটি পদক।

বাংলাদেশ থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে যশোরের পুলিশ লাইন্স মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মখদুম আমিন ফাহিম। রৌপ্যপদক পেয়েছে রাজধানীর হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এ-লেভেলের শিক্ষার্থী সপ্তর্ষি রহমান এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাদিত রাইয়ান।

ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের হোসেন জিসান। আর সম্মানসূচক স্বীকৃতি পেয়েছে খুলনার সাউথ হেরাল্ড ইংলিশ স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়ন্তন রায়। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ফাহিম বলে, এমন কিছু যেটা কখনও কেউ অর্জন করতে পারেনি। দেশের জন্য সেটা বয়ে নিয়ে আসা সত্যিই অসাধারণ অনুভূতির। এই অর্জনের কৃতিত্ব নিজের বিদ্যালয়, পরিবার এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনকে দিয়েছে। নতুনদের উৎসাহিত করে ফাহিম বলে, অ্যাস্ট্রোনমিতে ভালো করতে হলে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতে ভালো জ্ঞান থাকা।

রৌপ্যপদক জেতা ঢাকার হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এ লেভেল শিক্ষার্থী সপ্তর্ষি রহমান ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাদিত রাইয়ানের কণ্ঠেও ছিল আনন্দের সুর।

এর আগে অনেক পুরস্কার পেলেও এবারের রৌপ্যপদক অর্জনকে বিশেষ বলে মন্তব্য করেছে সপ্তর্ষি রহমান। সে জানিয়েছে, ওপেন ওয়ার্ল্ডের পুরস্কারটা একটু স্পেশাল। কারণ এই অর্জন শুধুই নিজের নয়, বরং এতে নিজ দেশকেও তুলে ধরা হয়েছে। মো. রাদিত রাইয়ান বলেছে, প্রতিটি পরীক্ষার আগে এই অনুভূতি ছিল, দেশের জন্য কিছু করতে হবে। এমন একটা স্থানে নিজ দেশকে উপস্থাপন করতে পারাটা আনন্দদায়ক। সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের হোসেন জিসান এবং সম্মানসূচক স্বীকৃতি পাওয়া খুলনার সাউথ হেরাল্ড ইংলিশ স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়ন্তন রায়।

বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মশহুরুল আমিন শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে নতুন করে কাজের উদ্যম খুঁজে পাওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, এটা অনেক বড় অর্জন। তবে এটাই আমাদের শেষ নয়। আমরা চাই, যারা পদক জয় করেছেন, তাঁরা যেন ভবিষ্যতে অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করে দেশের কল্যাণে অবদান রাখেন। মৌলিক গবেষণায় যদি 
প্রতিযোগীরা কাজ করতে আগ্রহ দেখায়, আমরা তাদের পাশে থাকব।

রাশিয়ায় অংশগ্রহণের আগে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশে অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডের ২০তম আসর আয়োজন করে। প্রথমে দেশের জেলা ও বিভাগীয় স্তরে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই রাউন্ড থেকে বাছাইকৃত ৩০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড এবং সর্বশেষ পর্যায়ে ৩০ জনকে নিয়ে ক্লোজড ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্লোজড ক্যাম্প শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ৬ জনকে রাশিয়ার প্রতিযোগিতার জন্য বাছাই করা হয়। 

আরও পড়ুন

×