বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তনদের মিলনমেলা
স্মৃতির আঙিনায় প্রাণের মেলা
সুমন গাজী
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:৪৩
দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পেরিয়ে আসা বন্ধুত্ব, স্মৃতি আর প্রিয় ক্যাম্পাসের টানে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সবুজ প্রাঙ্গণ। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে একত্রিত হয়েছেন ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। আনন্দ, আবেগ আর হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তাদের দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।
যেন ‘স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে, এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে’ এই বাক্যের অন্তর্নিহিত মন্ত্রে ‘প্রকৃতিকন্যা’ খ্যাত ক্যাম্পাস মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডের সামনে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মো বজলুর রহমান মোল্ল্যা, সদস্য সচিব এস এম মুসা তালুকদার চমকসহ ওই ব্যাচের শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে আসা পরিবার-পরিজন।
মিলনমেলাকে ঘিরে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয়। রংবেরঙেয়ের ঝালর বাতিতে রাতের আকাশ রঙিন হয়ে উঠেছিল। টিএসসি থেকে ভিসি বাসভবন পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে ঝালর বাতিতে আলোকিত ছিল। এই আলোতে নিজেদের অবগাহন করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা পর্যটক। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে বিকেলে ‘কৃষি খাতে ড্রোন, স্যাটেলাইট এবং এয়ারবোর্ন প্রযুক্তির প্রয়োগ’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। পরে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় মনোরঞ্জন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী লুইপা ও পুলক। প্রাক্তনরাও শিল্পীর সুরে সুর মিলিয়ে গাইতে থাকেন গান। পাশাপাশি দিনব্যাপী পুরুষ ও নারীদের জন্য বিভিন্ন গেমস সেগমেন্টের আয়োজন রাখা হয়।
পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করে ওই ব্যাচের সীমা হালদার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে আমার সবসময় ভালো লাগে। এবারের ভালো লাগা অনেক বেশি আর উপভোগ্য। সেই প্রথম বর্ষের পুরোনো দিনে ফিরে গেছি মনে হচ্ছে। পুরোনো বন্ধুদের দেখে সত্যি আবেগাপ্লুত। বয়স যে ৫০ পেরিয়েছে এটা অনুভূত হচ্ছে না। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ড. মো বজলুর রহমান মোল্ল্যা বলেন, ‘দেশ-বিদেশ থেকে অনেক বন্ধু-বান্ধব উপস্থিত হয়েছে এই মিলনমেলায়।
অনেক বন্ধু আছে যাদেরকে ২৫ বছর পর দেখছি। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা আবারও একত্রিত হতে পেরে অন্যরকম প্রশান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে আমরা সেই প্রথম বর্ষে ফিরে গেছি।’ অনুষ্ঠানে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘বছরের পর বছর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পুরোনো বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ হয়না। এই উপলক্ষে এই আয়োজন করা। সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজকবৃন্দ সাজিয়েছে। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসে এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’
- বিষয় :
- কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
