ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

আনন্দের সেই দিনগুলো

আনন্দের সেই দিনগুলো
×

দেখা হবে বন্ধু আবার

 সেঁজুতি মুমু

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:৩২

২ মার্চ ২০২২– দিনটি ছিল আমাদের জীবনের এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী হিসেবে সেদিনই আমাদের প্রথম পদার্পণ। বর্ণাঢ্য নবীনবরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষক ও বড় ভাই-আপুরা আমাদের বরণ করে নিয়েছিলেন।

উপাচার্য ও ডিন মহোদয়ের মূল্যবান বক্তব্য আর বাংলা বিভাগের নতুন স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল আমাদের যাত্রা। চোখের পলকেই যেন কেটে গেল চারটি বছর। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে মৌখিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো আমাদের স্নাতক জীবনের এই দীর্ঘ পথচলা।

ফিরে তাকালে মনে হয়, এই তো সেদিন প্রাণের ক্যাম্পাসে এসেছিলাম! সময় যেন বহমান নদীর মতো নিজস্ব গতিতে বয়ে গেছে। করোনা মহামারির পরবর্তী সময়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা এই ৭৫ একরের সবুজ ক্যাম্পাসে মিলিত হয়েছিলাম। এই চার বছরে জমা হয়েছে কত শত স্মৃতি, কত প্রাপ্তি আর কত খুনসুটি। ক্লাসে উপস্থিত হওয়া নিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে মান-অভিমান, শিক্ষকদের বকুনি, আর বন্ধুদের সঙ্গে সারাদিনের আড্ডা– সবই আজ হৃদয়ের অ্যালবামে ফ্রেমবন্দি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত জীবনে স্কুলের মতো ইউনিফর্মের বাধ্যবাধকতা নেই, প্রতিদিন নতুন নতুন সাজে ক্যাম্পাসে আসার সেই আনন্দটুকু ছিল অন্যরকম। আমাদের এই চার বছরের অন্যতম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ছিল গ্রুপ প্রেজেন্টেশন। শিক্ষকদের বেঁধে দেওয়া গ্রুপে ভাগ হয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ করা, আর সেই প্রতিযোগিতার আমেজ ছিল দারুণ উপভোগ্য। আজ একটি যাত্রার সমাপ্তি ঘটল ঠিকই, কিন্তু সামনে পড়ে আছে বিশাল এক জীবন। সবার চোখে এখন আগামীর স্বপ্ন। হয়তো কর্মব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন আর দেখা হবে না, বছরের পর বছর কথা হবে না কারও সঙ্গে, কিন্তু এই দিনগুলো চিরকাল অম্লান থাকবে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে গত চার বছরে প্রিয় শিক্ষকদের কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। এই বিভাগে না পড়লে হয়তো জানাই হতো না বাংলা ভাষার মাধুর্য আর সাহিত্যের গভীরতা কতখানি। 

আমাদের ব্যাচটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম ব্যাচ। অনেকে হয়তো একে ‘আনলাকি থার্টিন’ বলে ডাকেন, কারণ দীর্ঘ সময় আমাদের অনিশ্চয়তা আর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, আমরা ‘আনলাকি’ নই, বরং আমরা অন্যতম একটি পরিশ্রমী ও লড়াকু ব্যাচ। নিজেদের কর্ম আর মেধা দিয়ে আমরা আমাদের সুদিন ছিনিয়ে এনেছি–এটাই আমাদের বড় অর্জন।

আরও পড়ুন

×