খুবিতে ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরার অভিযোগে বিক্ষোভ, প্রশাসনিক ভবনে তালা
ছবি- সমকাল
খুবি সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ২০:১৬
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয়-২৪ ছাত্রী হলের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে তারা প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার বিজয়-২৪ হলের ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পান কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী। পরে তারা হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান (২৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের কিছু ছবি পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ভোরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
অভিযুক্ত ইমাম হাসান হলের ক্যান্টিন পরিচালকের ছেলে এবং প্রায় দুই বছর ধরে ওই ক্যান্টিনে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাত থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন তারা। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা হাদি চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে প্রশাসনিক ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিনা খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে এবং খবর পেয়ে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। আলামত হিসেবে মোবাইল ফোনটি সিলগালা করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তের ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে এবং হলের কর্মচারীদের হলের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ খান ঘটনাটিকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো ছাড় নেই। অভিযুক্তকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়