ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

কুরিয়ারে পাঠানো পার্সেলে মাদক, পুলিশ কর্মকর্তা আটক

কুরিয়ারে পাঠানো পার্সেলে মাদক, পুলিশ কর্মকর্তা আটক
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৯:৩১ | আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১০:৫৪

রাজধানীর দারুসসালামে আবদুল জলিল মাতব্বর নামে এসআই পদমর্যাদার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো একটি পার্সেলে মাদকদ্রব্য পাওয়ার সূত্র ধরে বুধবার তাকে আটক করে পুলিশ। তিনি নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে গোপালগঞ্জে বদলি করা হয়। তার পার্সেলে মাদকের পাশাপাশি অস্ত্র-গুলি পাওয়ার কথা শোনা গেলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যাপক লুকোচুরির আশ্রয় নেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান সমকালকে বলেন, 'এমন একটি ঘটনার কথা জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এদিকে পুলিশ সূত্র জানায়, বদলিজনিত কারণে এসআই আবদুল জলিল মাতব্বর তার বিভিন্ন জিনিসপত্র কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলেন। বুধবার দুপুরে পার্সেলটি ঢাকার দারুসসালামে কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে থাকার সময় তা থেকে অ্যালকোহলের গন্ধ ছড়াতে থাকে। ভেতরে নিষিদ্ধ সামগ্রী থাকতে পারে সন্দেহে কুরিয়ার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানায়। দারুসসালাম থানা পুলিশ গিয়ে পার্সেল খুলে মদ-বিয়ার পায়। সেগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়। খবর পেয়ে এসআই জলিল থানায় গিয়ে পার্সেলটি নিজের বলে দাবি করেন। এ সময় তাকে আটক করে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।

পার্সেলে বিভিন্ন জিনিসপত্রের সঙ্গে মাদক থাকার কথা পুলিশ স্বীকার করলেও এর পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একটি সূত্রের দাবি, সেখানে মদ-বিয়ার ছাড়াও একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ২৭ রাউন্ড গুলি ও ছয় হাজার পিস ইয়াবা ছিল।

পুলিশের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, অস্ত্রটি বৈধ হতে পারে। তাই যাচাই না করে এ ব্যাপারে কথা বলা ঠিক হবে না। আরেক সূত্রের দাবি, সেটি খেলনা পিস্তল। এসআই জলিলের বিরুদ্ধে পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে হয়তো খেলনা পিস্তলটি ব্যবহার করা হতো।

এ ব্যাপারে জানতে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহম্মেদ ও দারুসসালাম থানার ওসি তোফায়েল আহমেদসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাকে বারবার ফোন করেও বিস্তারিত তথ্য মেলেনি। তারা ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

আরও পড়ুন

×