ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

দুই পরিবারের ভিন্ন ভাষ্য তদন্ত করছে পুলিশ

দুই পরিবারের ভিন্ন ভাষ্য তদন্ত করছে পুলিশ
×

ছবি: সংগৃহীত

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৭:৪০ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৮:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরায় সজীব প্রামাণিক নামে এক যুবক তাঁর স্ত্রী ও স্বজনের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর হাত-পা, বুক ও কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। তবে এ ঘটনায় তাঁর পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। 

সজীব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের পরীক্ষাগারের সহকারী (ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট)। নির্যাতনের অভিযোগে সজীবের বাবা মুন্নাফ প্রামাণিক বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সজীবের স্ত্রী শাহজাদী আক্তার এবং তাঁর দুই ভাই শাহাদত হোসেন ও শামছুদ্দিন শাওনকে আসামি করা হয়েছে। 
মামলায় হত্যার চেষ্টাসহ দণ্ডবিধির আরও কিছু ধারা যুক্ত করা হয়েছে। 

মামলায় বলা হয়, সজীব প্রামাণিকের সঙ্গে শাহজাদীর বিয়ে হয় তিন বছর আগে। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। কিছুদিন আগে শাহজাদী উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে তাঁর বাবার বাসায় বেড়াতে যান। ১৮ জুন সজীব স্ত্রীকে তাঁর বাসায় আনার জন্য উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে শ্বশুরের বাসায় যান। ১৯ জুন পারিবারিক বিষয় নিয়ে শাহজাদীর সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় শাহজাদী তাঁর দুই ভাইকে ডেকে আনলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সজীবকে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকেন। তারা তাঁকে পেটাতে পেটাতে পঞ্চম তলার বারান্দায় নিয়ে যান। একপর্যায়ে বারান্দা থেকে সজীবকে নিচে ফেলে দেন। এতে তাঁর দুই হাত-পা, বুক ও কোমরের হাড় ভেঙে যায়। পরে হামলাকারীরা সজীবকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান।

মামলায় বলা হয়, সজীব তাঁর স্ত্রীর ভাই শাহাদতকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা শাহাদত ফেরত দিচ্ছিলেন না।  
সজীবের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন সমকালকে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে সজীব কয়েক দফায় টাকা দাবি করে আসছিল। আমার মেয়েকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনও করে আসছে। ঘটনার দিন আমার ছেলের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। এ পর্যায়ে রাতে পাঁচতলা থেকে লাফ দেয়। এর আগেও সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। সিসি ক্যামেরা ও রাতে দায়িত্ব পালনরত প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

সজীবের বাবা মুন্নাফ প্রামাণিক সমকালকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে পাঁচতলা থেকে ফেলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন সে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মারধরের পর তাঁকে বারান্দার গ্রিলের ওপরের ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।’ 

উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোরশেদ আলম সমকালকে বলেন, পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে সজীবের জবানবন্দি নিয়েছেন। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।  

আরও পড়ুন

×