ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা সমঝোতা ঝুঁকিতে
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৮:৫২ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৯:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
উপসাগরীয় অঞ্চলে একে অন্যকে লক্ষ্য করে আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে নতুন করে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সমঝোতা স্মারক দুই পক্ষ মেনে চলবে কিনা তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গতকাল শনিবার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অবকাঠামোতে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে। উত্তেজনার সূত্রপাত হরমুজ প্রণালিতে এক কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘিরে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই হামলা ইরান চালিয়েছে। এর জবাবে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রাডার অবকাঠামোতে আঘাত হানে। পরে সেটির প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের এক খবরে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বন্দরে গত শুক্রবার শেষ ভাগে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। পরে বার্তা সংস্থা মেহেরের খবরে বলা হয়, সিরিক বন্দরে স্বাভাবিক কর্যক্রম চলছে। কোনো যন্ত্রাংশ বা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ড্রোন হামলার নিন্দা জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, এটি আমাদের যুদ্ধবিরতি সমঝোতার একটি লঙ্ঘন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, ইরান যদি আরও আক্রমণ চালায়, তাহলে সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে গতকাল শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোতে হামলা চালানোর পর আইআরজিসি জানায়, ‘যদি এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে আমাদের প্রতিক্রিয়া এর চেয়েও বড় হতে পারে।’
বাহরাইনে আক্রমণ
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের দক্ষিণ উপকূলে হওয়া মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। তবে সেসব অবকাঠামো কোথায় অবস্থিত, সে বিষয়ে কিছু বলেনি।
এদিকে, তেহরানের বিবৃতি প্রকাশের কিছুক্ষণ পর বাহরাইন নিজ ভূখণ্ডে ইরানের ড্রোন হামলার নিন্দা জানায়। দেশটি বলে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। যে হামলা তাদের ওপর হয়েছে, তা সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্য নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, তাদের মধ্যকার সমঝোতা টিকবে কিনা। এটি এখনও চূড়ান্ত নয়, তবে এর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় বসেছিল দুই পক্ষ।
প্রশ্ন পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে
জাতিসংঘের পরমাণু কর্মসূচির প্রধান সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চূড়ান্ত চুক্তিতে এমন শর্ত থাকতে হবে, যা তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে আসতে পারেনি তেহরান ও ওয়াশিংটন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পরিদর্শনে পরিদর্শকদের অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, তা নিয়েও সাংঘর্ষিক বক্তব্য দিচ্ছে দুই পক্ষ।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসি বলেছেন, ‘ইরান সরকার স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে এটি (অস্ত্র নির্মাণ) তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে উদ্দেশ্য থাকা বা না থাকা যথেষ্ট নয়। আমাদের অত্যন্ত দৃঢ় যাচাই প্রক্রিয়া থাকতে হবে, যা যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োগ করা যাবে।’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের মজুতের নিষ্পত্তি ঘটাতে হবে বা মান কমাতে হবে।
- বিষয় :
- ইরান যুদ্ধ
