ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

ঢাকার উপনির্বাচনে মাইকিং-পোস্টার নির্দিষ্ট স্থানে, জনসভার সুযোগ নেই

ঢাকার উপনির্বাচনে মাইকিং-পোস্টার নির্দিষ্ট স্থানে, জনসভার সুযোগ নেই
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৮:২২ | আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৮:৩১

ঢাকা-১০ আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনো জনসভা করা যাবে না। পথসভা করা যাবে; তবে তা পাঁচটির বেশি নয়। এছাড়া অলিগলি ও রাস্তাঘাটের যত্রতত্র পোষ্টার ও মাইকিং করা যাবে না। ইসির নির্ধারিত ২১টি স্থানে স্ট্যান্ডে পোস্টার টানাতে হবে। প্রচারে মাইক ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাবে নির্বাচনী ক্যাম্প ও নির্দিষ্ট স্থানে। এই উপনির্বাচনের কখন কোন প্রার্থী পথসভা করবেন তা সমন্বয় করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় অফিস খোলা থাকবে, চলবে গণপরিবহন।

এসব বিষয়ে এ আসনের প্রার্থীরা একমত হয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রার্থীদের সঙ্গে কমিশনের এক মতবিনিময় সভায় এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ সময় প্রার্থীরা সুষ্ঠু নির্বাচন, ভোটারদের কেন্দ্রে আনা, এজেন্টদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হলেও তা আমলে নেয়নি কমিশন।

সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা জানান, এ উপনির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে এ সমঝোতা সফল হলে জাতীয় নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা সংশোধন করা হবে।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সিইসি ছাড়াও চার কমিশনার ও ছয় প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় জানানো হয়, সদ্য সমাপ্ত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে মাইকিং, পোস্টার, সড়ক বা ফুটপাতের উপর ক্যাম্প স্থাপনের কারণে জনদুর্ভোগ হয়। এছাড়া পোস্টারে পলিথিন ব্যবহারের উপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সামনের নির্বাচনগুলোতে এসব যন্ত্রনা দূর করতে নির্বাচন কমিশন এ উদ্যোগ নিয়েছে। সভা শেষে ঢাকা-১০ আসনের ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে সবাইকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

সভার শুরুতে প্রার্থীদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ২৫ টন পোস্টার এমনভাবে ঝোলানো হয়েছিল যে আকাশের চাঁদ-সূর্য দেখা যায়নি। এসব পোস্টার ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে গেছে। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া মাইকিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ক্ষতি হয়েছে।

সভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ভোটারদের সুবিধার্থে গণপরিবহন সচল রাখার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বিলবোর্ডে প্রচারের সুযোগ দিতে হবে। ভোটের আগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) দেখার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম বলেন, এজেন্টদের নিরাপত্তা দেওয়া হয় না। তাদেরকে বের করে দেওয়া হয়। হয় এজেন্টদের কেন্দ্রে যাওয়া, অবস্থান ও বাড়িতে ফেরার নিরাপত্তা দিতে হবে, অন্যথায় নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে এজেন্ট তুলে দিতে হবে।

জবাবে সিইসি বলেন, এজেন্টদের কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব নেওয়া ইসির পক্ষে সম্ভব নয়। বিদ্যমান বিধিও সংশোধন সম্ভব নয়। কেউ এজেন্টদের বের করে দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করার সযােগ থাকছে। সিইসির এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান কয়েকজন প্রার্থী। তারা নির্বাচন ব্যবস্থা, ভোটারদের অনীহা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সভায় কিছুটা হৈ চৈ শুরু হয়।

তারা বলেন, এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ দেওয়ার আগেই মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আরেক প্রার্থী বলেন, অনাস্থার কারণে ভোটাররা কেন্দ্রে যান না। গোপন কক্ষে অন্যরা বসে থাকেন। ইসি এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এ পর্যায়ে দুই নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী প্রার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রচারে কি কি পরিবর্তন করা যায় আলোচনা সেই বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পরে সিইসি বলেন, এজেন্টদের কেন্দ্রে নেওয়ার দায়িত্ব ইসির না। এটা রাজনৈতিক দলের। তবে কেন্দ্রে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব প্রিজাইডিং কর্মকর্তার। কেউ নিরাপত্তা না দিলে ইসির কাছে অভিযোগ করলে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহাজাহান বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে প্রচার চালালে অলিগলিতে তা সম্ভব হবে না। এতে ভোটাররা প্রার্থী সম্পর্কে জানতে পারবেন না।

তিনি বলেন, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম। কীভাবে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো যায়, তা ভেবে দেখা উচিত। এজেন্টরা নিরাপদে কেন্দ্রে অবস্থান করতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইসিকে সেই ভ'মিকা পালন করতে হবে। পরে অন্য প্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন।

সভা শেষে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে পরীক্ষামূলক এই প্রচার কৌশল সফল হলে জাতীয় পর্যায়ে আচরণ বিধিমালা পরিবর্তন করা হবে। এ নির্বাচনে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল সুবিধমতো জায়গায় পাঁচটি পথসভা করতে পারবে। যেখানে একদল পথসভা করবে, সেখানে আরেক দল করবে না। জনসভা করা যাবে না। ভোটের দিন গাড়ি চলবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নির্বাচনী ক্যাম্প মাইক ব্যবহার করা যাবে। এর বাইরে একেবারেই মাইক বাজানোর কোন সুযোগ থাকবে না। নির্ধারিত ২১ জায়গায় পোস্টার টানাতে পারবেন। এর বাইরে কোথাও বা রাস্তা, অলিতেগলিতে পোস্টার টানাতে পারবেন না। আর লেমিনেটেড পোস্টার টানাতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১০ আসন থেকে পদত্যাগ করে সিটি নির্বাচনে অংশ নিলে আসনটি শূন্য হয়।

আরও পড়ুন

×