ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

ক্রাইম পেট্রোল দেখে 'বিদ্যালাভ', চোরের কাছে বাহিনীর অস্ত্র

ক্রাইম পেট্রোল দেখে 'বিদ্যালাভ', চোরের কাছে বাহিনীর অস্ত্র
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৮:৩২ | আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৮:৫০

রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ সোহানের (২৪) বাসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গেছে। অস্ত্রটি সে কিভাবে সংগ্রহ করেছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, সোহান দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন বাসাবাড়িতে চুরি করে আসছিল। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠিত ক্রাইম পেট্রোল দেখে সে চুরিবিদ্যা শিখেছে।

রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদিতে আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাসায় তালা ভেঙে চোর ঢোকে। বাসা থেকে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকাসহ প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা হয়। ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার দিনের। পর্যালোচনা করে চোর সোহানকে শনাক্ত করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর কালাপানি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। পরে তার বাসা থেকে গাঁজা, নগদ টাকা, চোরাই মালামাল, একটি পিস্তল, ম্যাগজিন, গুলি ও চাকুসহ চুরি করতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহান পুলিশকে জানিয়েছে, সে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে নিয়মিত ক্রাইম পেট্রোল দেখত। চুরির দৃশ্যগুলো মনযোগসহকারে দেখত। সেখান থেকেই চুরির বিষয়ে নানা কলাকৌশল শিখে হাত পাকিয়েছে। সে কখনও রাতে চুরি করতে বের হয় না, দিনে চুরি করে। বাসায় সিসি ক্যামেরা আছে কি-না সেটিও রেকি করে আগে থেকে। সিসি ক্যামেরা থাকলে সেখানে চুরি করে না। প্রথমে টার্গেট করা বাড়ির দারোয়ানের গতিবিধি দেখে সুযোগ বুঝে ভেতরে প্রবেশ করত। বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বেরিয়ে যেত।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা সদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, সোহানের বাসায় যে পিস্তলটি পাওয়া গেছে, এ ধরনের পিস্তল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবহার করে থাকে। জিজ্ঞাসাবাদে সোহান জানিয়েছে, সে এক লোকের কাছ থেকে অস্ত্রটি ৫০ হাজার টাকায় কিনেছে। আসলেই কি কেউ তার কাছে অস্ত্রটি বিক্রি করেছে, নাকি অন্য কোনো উপায়ে সে অস্ত্রটি পেয়েছে তা অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে এটি ডিএমপির অস্ত্র নয়, তা সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

×