কিছু মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান মানুষের সঙ্গে প্রতরণা করছে: এনএইচআরসি চেয়ারম্যান
কারওয়ান বাজার কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনএইচআরসি চেয়ারম্যান ড. কামালউদ্দিন আহমেদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৩ | ১৩:৩৫ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৩ | ১৩:৩৯
কিছু কিছু মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান মানুষের সঙ্গে প্রতরণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) চেয়ারম্যান ড. কামালউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের আরও সচেতন করতে হবে।’
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ভুয়া মানবাধিকার সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ সময় কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য সেলিম রেজাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ড. কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘আমরা আমাদের কাজকে দৃশ্যমান করতে চাই। এ প্রেক্ষাপটে কমিশন থেকে বেসরকারি সংস্থা কথিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের নিবন্ধনকারী সংস্থা সমাজ সেবা অধিদপ্তর, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে ইতোমধ্যে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। তারা ‘বিএইচআরসি’ নামে কোনো নিবন্ধন দিতে পারে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘কথিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান পরিচয়ে সোমবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম দিলদার কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা নয়। তিনবার পরীক্ষা দিয়ে এসএসসি পাশ করেছেন বলে শুনেছি। তিনি এখন ‘ডক্টর’ পদবি ব্যবহার করেন। সে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড করছে। তাদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন’ এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ এর সঙ্গে নামের মিল থাকায় সংশ্লিষ্টতা বেশি। তারা নিজেদেরকে সরকারি কমিশন নাম করে জনগণের সঙ্গে প্রতরাণা করছে। মানুষকে যেন প্রতারিত না হতে হয়, সেজন্য সবাইকে আরও বেশি সজাগ থাকতে হবে।’’
এদিকে, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের (বিএইচআরসি) বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে মানবাধিকার কনভেনশন-২০২৩ এ নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তারা তাদের ফেসবুক পেজে একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতরণার অভিযোগে গত রোববার রাজধানীর মালিবাগ এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরদিন সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার এইচএম আজিমুল হক।
এনএইচআরসি চেয়ারম্যান কামালউদ্দিন বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। আর বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা। তারা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইন বলে মানবাধিকার ‘কমিশন’ শব্দটি লিখতে পারবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নামীয় সংস্থাটির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আসামিরা সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
/আরএইচ/
