ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

ঢাকায় ১০ টাকার চাল বিক্রি বন্ধ

ঢাকায় ১০ টাকার চাল বিক্রি বন্ধ
×

ফাইল ছবি

আবু কাওসার

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:২৪ | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:৩৫

চাল বিতরণ ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানী ঢাকায় ওএমএসের আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার দরিদ্র মানুষের মধ্যে এ চাল বিতরণ কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা হয়। কোনো কোনো এলাকায় সুবিধাভোগীদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, রাজধানী ঢাকায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি। তাই জনসমাগম ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানাচ্ছে, সুবিধাভোগীরা এ চাল পাচ্ছেন না। বরং তা চলে যাচ্ছে কালোবাজারে। নিয়মানুযায়ী একটি পরিবারের সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু চলে যাচ্ছে ৩০ কেজি কিংবা তারও বেশি। একই পরিবারের একাধিক সদস্যসীমার অতিরিক্ত চাল কিনছেন।

আবার একই ব্যক্তি বারবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এ চাল কিনতে এত বেশি লোক হচ্ছে যে, চাপ সামলানো যাচ্ছে না। খাদ্য মন্ত্রণালয় নিবিড় তদারকির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলার, কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশে চাল বিক্রির অভিযোগও উঠছে। সব মিলিয়ে এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চলমান সাধারণ ছুটির সময় নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষায় গ্রামের পাশাপাশি শহরেও গত ৫ এপ্রিল থেকে ওএমএসের আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু এর মধ্যেই ঢাকা শহরে ১০ টাকা কেজি দরের চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

শহরে ১০ টাকায় চাল বিক্রির নীতিমালা অনুযায়ী, ভোটার আইডি কার্ড দেখিয়ে চাল নেওয়ার কথা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে এ চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ, এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না। চাল বিতরণ ব্যবস্থায় ডিসি অফিসগুলো যথাযথ ভূমিকা রাখছে না। প্রত্যেক জেলায় ডিসির নেতৃত্বে একটি কমিটি আছে। যেটিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আছেন। এ কমিটির এলাকাভিত্তিক সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করার কথা। তার পরও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে চাল ঠিকমতো কেন যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে খাদ্য সচিব নাজমানারা খানুম সমকালকে বলেন, চালের দাম কম হওয়ায় যার প্রয়োজন নেই বা বাজার থেকে কেনার সামর্থ্য আছে, তিনিও লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। ফলে বেশি সমাগম হচ্ছে। ঢাকায় করোনা সংক্রমণ বেশি। এছাড়া অনেক এলাকায় লকডাউন চলছে। তাই জনগণের চাপ কমাতে ও করোনা সংক্রমণ রোধে ঢাকায় আপাতত এ কর্মসূচি বন্ধ রাখা হয়েছে।

দশ টাকার চাল নয়ছয় হওয়া প্রসঙ্গে খাদ্য সচিব বলেন, অভিযোগটি আমরাও পাচ্ছি। মৃত্যুর চেয়ে যদি লোভ বেশি হয় তা হলে কী করার আছে? আমরা যথেষ্ট তদারকি করছি। তার পরও অনিয়ম হচ্ছে না তা বলব না। তিনি বলেন, রেশনের চালও কালোবাজারে যাচ্ছে! যারা এসব করছে তাদের ধরা হচ্ছে। শক্ত মামলা হচ্ছে। তদন্ত হলে কে প্রকৃত দায়ী তা জানা যাবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সরোয়ার আলম বলেন, কর্মহীন মানুষ এর সুবিধা না পেলে এ কর্মসূচি চালুর উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। খোঁজ নিয়ে দেখা যাচ্ছে, অন্যরা এর ফায়দা লুটে নিচ্ছে। আইডি কার্ড দেখা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, লোকের এত বেশি চাপ যে, আইডি কার্ড ঠিকমতো তদারকি করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিয়েও এত লোককে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এখন নতুন করে লিস্ট হচ্ছে, যাতে সত্যিই পাওয়ার যোগ্য মানুষদের কাছে এর সুবিধা পৌঁছায়।

আরও পড়ুন

×