নৌকাবিহীন ঢাকা-১৮ আসনে কেটলি-ট্রাকের দৌড়
উত্তরার প্রচার সভায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী খসরু চৌধুরী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৩:৪৭ | আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৪:৪০
আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ছাড়াই জমে উঠেছে ঢাকা মহানগরের একমাত্র নৌকাবিহীন আসন ঢাকা-১৮’র নির্বাচনী আবহ। সমঝোতার টেবিলে আওয়ামী লীগ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ায় এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে রয়েছেন দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই দুই প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন মহানগর উত্তরের বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
নৌকার প্রার্থী প্রত্যাহারের পর থেকেই এই আসনে জাতীয় পার্টির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় আছেন কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মো. খসরু চৌধুরী। তিনি ছাড়াও এই আসনে আছেন আরও ৩ স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে প্রথম দিকে তারা নীরব থাকায় খসরু চৌধুরীকেই আওয়ামী লীগের ছায়া প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় নেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
এদিকে খসরুকে ঠেকাতে বর্তমান এমপি হাবিব হাসান বলয়ের একনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা সম্প্রতি ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে সক্রিয় হয়ে ওঠার পর থেকে বদলাতে শুরু করেছে দৃশ্যপট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচনী গণসংযোগে না নামায় ও তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের তৎপরতা কম থাকার পাশাপাশি তোফাজ্জলের পক্ষে এমপিপন্থীদের তৎপরতা এই পরিবর্তন এনেছে। দলীয় একটি সূত্র জানায়, ৩০ ডিসেম্বর এক পথসভায় তোফাজ্জলের পক্ষে নিজের অবস্থান জানান এমপি হাবিব হাসান। সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুসারে, এই আসনে জাতীয় পার্টিকে পেছনে ঠেলে আলোচনায় রয়েছে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী খসরু-তোফাজ্জল দ্বৈরথ।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর থেকে নীরব ভূমিকায় ছিলেন বর্তমান এমপি হাবিব হাসানের অনুসারীরা। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক প্রতীকের অস্থায়ী প্রচার ক্যাম্প, পথসভা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী তৎপরতা পর্যবেক্ষণে দেখ যায়, নীরব ভূমিকায় থাকা হাবিবপন্থী নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণখান, খিলক্ষেত ও তুরাগ এলাকার তিন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন হাবিব হাসান ও খসরু চৌধুরী। পরে হাবিব হাসান নৌকার প্রার্থী হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন খসরু। এছাড়া স্থানীয় রাজনীতিতে দলের আলাদা বলয়ের হিসেব কষেই কেটলির উত্তাপ কমাতে ট্রাকে চেপেছেন হাবিবপন্থী নেতারা।
দক্ষিণখান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম মাসুদুজ্জামান মিঠু জানান, নৌকার প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী মতাদর্শের অনুসারী হিসেবে খসরু চৌধুরীকে সমর্থন করছেন তারা।
ডিএনসিসি ৫৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ জানান, নৌকার প্রার্থী না থাকায় খসরু চৌধুরীই আওয়ামী লীগের ছায়া প্রার্থী এই আসনে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের অধিকাংশই খসরু চৌধুরীর পক্ষে। মহানগর উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ দলীয় নেতা হওয়ায় তিনিই এগিয়ে আছেন।
এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী খসরু চৌধুরী দৈনিক সমকালকে জানান, প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বীকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে আওয়ামী লীগের ছায়া প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনিও সেভাবেই মাঠে আছেন। নির্বাচিত হলে এই এলাকার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের পরিচয়টিকে সবার আগে রাখবেন।
ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেনের ব্যাপারে খসরু চৌধুরী বলেন, ‘আগে থেকেই নানা কর্মকাণ্ডের কারণে বিতর্কিত তিনি। বর্তমান এমপির একনিষ্ঠ অনুসারীরা তাকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এরইমধ্যে তোফাজ্জলের অনুসারীদের কর্মকাণ্ডে অন্তত ৪-৫টি মামলা হয়েছে। ঢাকা-১৮ আসন থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক নির্মূলের প্রতিজ্ঞা নিয়েছি আমি।’
কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক এম এ খালেদ খান জানান, ঢাকা-১৮ আসন থেকে জাতীয় পার্টি ও ৪ স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন ভোটের মাঠে। বেকার সমস্যা দূরীকরণে উদ্যোগ গ্রহণ, নিজ খরচে সড়ক মেরামত এবং ক্লিন ইমেজের কারণে এই আসনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন খসরু চৌধুরী।
- বিষয় :
- ঢাকা-১৮
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
