ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

রাজাবাজার লকডাউন

এখনও সচেতন নয় মানুষ আক্রান্ত বেড়ে দ্বিগুণ

এখনও সচেতন নয় মানুষ আক্রান্ত বেড়ে দ্বিগুণ
×

ফাইল ছবি

ইন্দ্রজিৎ সরকার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ২১ জুন ২০২০ | ১৪:৫৬

করোনার সংক্রমণ রোধে লকডাউনে থাকা রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। লকডাউন শুরুর আগে এই এলাকায় আক্রান্ত ছিলেন ৩১ জন। এরপর ১৬ জুন পর্যন্ত স্থানীয় বুথে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩১ রোগী। পরের তিন দিনে আরও তিনজন যুক্ত হয়ে এখন এলাকায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৫। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় লকডাউন ১৪ থেকে বাড়িয়ে ২১ দিন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, সংক্রমণের ঘনত্ব বিবেচনায় 'রেড জোন' হিসেবে পূর্ব রাজাবাজারকে প্রথম পরীক্ষামূলক লকডাউন করা হয়। প্রায় সব ধরনের নাগরিক চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা রেখেই এখানে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে একরকম বাধ্য করা হচ্ছে। তারপরও অনেকের মধ্যে সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। করোনার সুস্পষ্ট লক্ষণ থাকার পরও অনেকে পরীক্ষা করাচ্ছেন না বা আইসোলেশনে যাচ্ছেন না। উল্টো শরীরে জ্বর-কাশি নিয়ে আড্ডা দিয়েছেন, এমন ঘটনাও আছে। বাইরে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানেও দেখা যায় লোকজন মাস্ক ছাড়া ও শারীরিক দূরত্ব না মেনে কেনাকাটা করছেন। সন্ধ্যার পর নজরদারির শিথিলতার সুযোগে গলির ভেতর আড্ডা দিচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

লকডাউন বাস্তবায়নে এলাকায় কাজ করছে একদল স্বেচ্ছাসেবী। তাদের সমন্বয়ক ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের একান্ত সচিব মাসুদ হোসেন সুমন সমকালকে বলেন, 'মানুষকে নিয়ম-কানুন মানানো সহজ নয়। প্রতিদিন স্বেচ্ছাসেবীরা হ্যান্ডমাইকে সবাইকে সতর্ক করে দিচ্ছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলছেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল, ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা আছে। আর সার্বক্ষণিক পুলিশের নজরদারি তো আছেই। তারপরও সুযোগ পেলেই নিয়ম লঙ্ঘন করছেন এলাকাবাসী। যার শরীরে লক্ষণ আছে, তিনি নিজে যদি সচেতন-সতর্ক না হন, তাহলে তার আশপাশে করোনা ছড়াতেই পারে। তবে লকডাউনের মধ্যে আক্রান্ত বাড়ছে, এটা বলা ঠিক হবে না। কারণ, আক্রান্ত হওয়ার কয়েকদিন পরে লক্ষণ প্রকাশ পায়। আবার লক্ষণ দেখে সন্দেহ হওয়ার পরও কেউ কেউ পরীক্ষা করাতে সময়ক্ষেপণ করেন। ফলে যারা আগেই আক্রান্ত ছিলেন, লকডাউনের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষায় তাদেরই কভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। পরে ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে।'

আইইডিসিআরের বরাত দিয়ে কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত চার দিনে পরীক্ষাও তুলনামূলক কম হয়েছে। রাজাবাজারে স্থাপিত বুথে প্রথম সপ্তাহে মাত্র একদিন সর্বনিম্ন ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরের সপ্তাহে ১৭ জুন ছয়জন ও ১৯ জুন সাতজনের নমুনা পাওয়া গেছে। ২০ জুন পর্যন্ত মোট ১৮৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ১৯ জুন পর্যন্ত পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে। এতে মোট ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন একজন।

দায়িত্বশীলরা জানান, ১০ জুন থেকে এখানে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। সেদিন সংগ্রহ করা ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় চারজনের করোনা শনাক্ত হয়। দ্বিতীয় দিন ১৬ জনের মধ্যে পাঁচজন, তৃতীয় দিন ২১ জনের মধ্যে তিনজন, চতুর্থ দিন ১৯ জনের মধ্যে আটজন, পঞ্চম দিন ২১ জনের মধ্যে চারজন, ষষ্ঠ দিন ২০ জনের মধ্যে দু'জন ও সপ্তম দিনে ১৯ জনের মধ্যে পাঁচজনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। গড়ে প্রতিদিনই চারজনের বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ায় সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

×