ওয়ারী
জনপ্রতিরোধে বাঁচল কিশোরের প্রাণ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | ০০:৪৩ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৫ | ১৪:৪০
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগ হত্যার রেশ এখনও কাটেনি। এরই মধ্যে ওয়ারীর হাটখোলা রোডের আরেকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোড়ন তুলেছে। জনপ্রতিরোধে প্রাণে বেঁচে যায় সৈয়দ রেদোয়ান মাওলা নামে এক কিশোর। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামলায় জড়িত দু’জনকে ধরে থানায় দিয়েছে জনতা।
এ ঘটনার পর যারা কিশোরের প্রাণ রক্ষা করেছেন, তারা প্রশংসায় ভাসছেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘যা মিটফোর্ডের লোকজন পারেনি, সেটি ওয়ারীর লোকজন পেরেছে। সারাদেশে এভাবে জনপ্রতিরোধ গড়ে উঠলে মব ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড প্রতিহত হবে।’ পুলিশ কর্মকর্তারাও জনপ্রতিরোধের বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে পুলিশ বিপাকে পড়েছে এ ঘটনার রহস্য ভেদ করতে গিয়ে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ডিএমপির ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের সার্জেন্ট মোবারক হোসেন বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর হাটখোলা কনকর্ড টাওয়ারের সামনে ১০ থেকে ১২ জন মিলে এক কিশোরকে মারধর করে। পরে আমি এগিয়ে গিয়ে জনতার সহযোগিতা চাইলে পথচারী ও স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। এতে প্রাণে বেঁচে যায় ওই কিশোর। আর হামলাকারীদের মধ্যে দু’জনকে ধরে ফেলেন জনতা। হামলাকারীদের পিটুনি দিতে গেলে থানা পুলিশ ও ট্রাফিকের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় সেটিও থামানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই জাকারিয়া খান বলেন, দু’পক্ষই কেউ কাউকে চেনে না বলে দাবি করেছে। এতে প্রকৃত কারণ কী, সেটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা উভয় পক্ষ এবার এসএসসি পাস করেছে। ভুক্তভোগীরা ওয়ারীর কে এম দাস লেনের বাসিন্দা ও মিতালী বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী। আর আসামিদের বাসা দয়াগঞ্জ এলাকায় এবং শেরেবাংলা স্কুলের শিক্ষার্থী তারা। তাদের পূর্বপরিচয়ের বিষয়েও কিছু জানা যায়নি। প্রকৃত ঘটনা জানতে তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সরু গলি দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের মধ্যে কিছু হয়ে থাকতে পারে। এ নিয়ে মারামারি হয়েছে। আসামিদের আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে প্রকৃত ঘটনা জানতে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।
ওয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোরশেদ আলম বলেন, তারা পূর্বপরিচিত কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কিশোর রেদোয়ান ও তার দুই বন্ধু এবং গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি আবদুর রহিম মাহি ও সাব্বির হোসেন রাতুল দ্বিধায় ফেলে দিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের।
ভুক্তভোগী বলছে, সে আসামিদের চেনে না। আবার আসামিরা বলছে, তারাও রেদোয়ানকে চেনে না। তাহলে দ্বন্দ্ব কী নিয়ে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
প্রাথমিক তদন্তে তাদের পূর্বদ্বন্দ্ব বা পরিচয়ের প্রমাণ পায়নি পুলিশ। উল্টো দু’পক্ষই মূল ঘটনা আড়ালের চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা সৈয়দা রাশিদা মাওলা বাদী হয়ে গ্রেপ্তার দু’জনসহ অজ্ঞাত আরও আটজনকে আসামিকে করে ওয়ারী থানায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে ঘটনার বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করা হয়নি।
এ ব্যাপারে সৈয়দা রাশিদা মাওলা বলেন, হঠাৎ তাঁর ছেলের ওপর হামলা হয়েছে। কারণ সম্পর্কে ছেলে রেদোয়ান কিছুই বলতে পারছে না।
এদিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে রেদোয়ান তার দুই বন্ধু আশির ও তামিমকে নিয়ে হাটখোলা রোড দিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার দুই আসামিসহ অজ্ঞাতরা গতিরোধ করে। পরে চাকু দিয়ে রেদোয়ানের শরীরে জখম করে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দু’জনকে পুলিশ হেফাজতে দেন।
