ছায়ানট সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
গান-কবিতায় রবীন্দ্র স্মরণ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে বুধবার রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে গান ও কবিতা পাঠ। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫ | ০৬:০৬
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে প্রতিবছরের মতো এবারও ছায়ানট সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান ‘অন্তরতর হে’। এতে একক গানের পাশাপাশি সম্মেলক গান ও কবিতা পাঠের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের সাংস্কৃতিক ও ভাবনাকে গভীরভাবে অনুধাবন করা হয়।
অন্তরঙ্গ এ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা শুরু হয় সম্মেলক গান ‘অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে’ দিয়ে, যা রবীন্দ্রনাথের আত্মসাধনার আহ্বানকে স্মরণ করায়। এর পর একের পর এক সুরের ঝংকারে মোহিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান। ইফফাত বিনতে নাজির এককভাবে পরিবেশন করেন ‘চিত্ত পিপাসিত রে/ গীতসুধার তরে’, যা সংগীতের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের আধ্যাত্মিক ভাবনাকে হৃদয়ে অংকিত করে। এরপর সম্মেলক গানের ধারাবাহিকতায় ‘হৃদয় আমার নাচে রে আজিকে’ পরিবেশিত হয়, যা এক নতুন তেজে শ্রোতাদের মোহিত করে।
এ ছাড়া নিজস্ব সংগীত পরিবেশনের অনন্য শৈলীতে রবীন্দ্রসংগীতের বিভিন্ন শাখাকে মূর্ত করে তোলেন শিল্পীরা। মাকসুরা আক্তার অন্তু পরিবেশন করেন– ‘ওলো সই’, যা ছিল প্রেম ও বিচ্ছেদের সংগীতের এক গভীর অভিব্যক্তি। অমেয়া প্রতীতি পরিবেশন করেন ‘তোমার গোপন কথাটি’, যা শোনার পর শ্রোতারা অনুভব করেন কবির গহিন অন্তরের স্বচ্ছতা ও তাঁর বিচিত্র রূপ।
অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন অভয়া দত্ত, যিনি গেয়েছেন ‘আজি যে রজনী যায়’, দীপ্র নিশান্ত তাঁর ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা’, তাহমিদ ওয়াসীফ রিভু ‘খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে’, মোস্তাফিজুর রহমান তূর্য ‘বঁধু, মিছে রাগ কোরো না’ এবং অভিজিৎ দাস ‘আমি কান পেতে রই’ গানটি পরিবেশন করেন।
এ অসাধারণ সন্ধ্যার এক অনবদ্য অংশ ছিল মনীষা সরকারের ‘কোলাহল তো বারণ হল’, যা রবীন্দ্রনাথের সমাজ সচেতনতার এক অনুপম প্রকাশ। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় আজিজুর রহমান তুহিনের ‘জগতে আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ’ গানের মাধ্যমে, যা ছিল এক অনুপ্রেরণামূলক আহ্বান। পুরো আয়োজনে গানের ফাঁকে ফাঁকে চলে কবিতা পাঠ ও কথা। সেখানে উঠে আসে কবির শৈল্পিক মনস্তত্ত্ব ও চিন্তা।
সবশেষে সম্মেলক গান ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ পরিবেশন করা হয়, যা বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি এক শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে গণ্য হয়। সন্ধ্যার পরিসমাপ্তি ঘটে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে, যা প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর হৃদয়কে স্পর্শ করে।
- বিষয় :
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
