উত্তরায় স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত
মাইলস্টোনকে জরিমানাসহ ৯ দাবি নিহতদের পরিবারের
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকা থেকে স্থানান্তরসহ ৯ দফা দাবিতে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিমান বিধ্বস্তে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবার - সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৪৬
অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ এনে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় রাজধানী উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে জরিমানাসহ ৯টি দাবি জানিয়েছে নিহতদের পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দুর্ঘটনায় নিহত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তারের মামা লিয়ন মীর, তৃতীয় শ্রেণির মরিয়ম উম্মে আফিয়ার মা উম্মে তামিমা ও অষ্টম শ্রেণির তানভীর আহমেদের বাবা রুবেল মিয়া। তারা নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৯টি দাবি তুলে ধরেন।
প্রথম তিনটি দাবি পাঠ করেন লিয়ন মীর। দাবিগুলো হলো– আইন অমান্য এবং নিয়ম ভঙ্গ করে কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার দায়ে মাইলস্টোনের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে; মাইলস্টোনসহ সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে; নিহত পরিবারগুলোকে মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ দ্বারা অর্থিক জরিমানা দিতে হবে।
আফিয়ার মা উম্মে তামিমা অন্য তিনটি দাবি পাঠ করেন। তিনি বলেন, রানওয়ে এলাকা থেকে মাইলস্টোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামক কোচিং সেন্টার স্থানান্তর করতে হবে; মাইলস্টোনে কোচিং বাণিজ্যের মূল হোতাদের দ্রুত অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদানকারী শিক্ষকদের অপসারণ এবং আইনের আওতায় আনতে হবে।
বাকি তিনটি দাবি পাঠ করেন তানভীর আহমেদের বাবা রুবেল মিয়া। দাবিগুলো হলো– ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষকে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে; জনস্বার্থে রিটকারী আইনজীবীর রিট অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের রিট বাস্তবায়ন করতে হবে এবং বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জনহীন এলাকায় স্থানান্তর করতে হবে।
লিয়ন মীর বলেন, মাইলস্টোন স্কুলের কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অনিয়মের কারণে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ছিল না।
গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের হায়দার আলী ভবনে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৬ জন। দগ্ধ অনেকে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সেদিন যদি ক্লাসের পর শিক্ষার্থীদের কোচিং না করানো হতো, তাহলে এত প্রাণহানি ঘটত না। ক্লাসের পর কোচিংই শিক্ষার্থীদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষকরা বাধ্য করে বাচ্চাদের কোচিং করাতেন। মাইলস্টোনে কোচিং বন্ধ করার জন্য এর আগে বহুবার আন্দোলন হয়েছে।
তারা আরও বলেন, প্রিন্সিপালের মেয়ে আমাদের প্রতি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নাকি চোখের পানি শেষ হয় না, আমরা টাকার জন্য জোর করে চোখে পানি আনি। আমরা এসবের কথার তীব্র নিন্দা জানাই।
- বিষয় :
- মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি
