পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু হত্যা
সাংঘর্ষিক বক্তব্য সোহেলের, নির্দোষ দাবি স্বপ্নার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ | ১১:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দিয়েছে। সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ক্ষমা চেয়েছে। আবার দোষ করেনি তা নয় বলেও মন্তব্য করে। তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলে, ‘আমি কিছুই করিনি।’
গতকাল বুধবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে দুই আসামি এসব কথা বলে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন।
গতকাল বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আদালত বসেন। সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তরকে সকালেই কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। বিচারক মাসরুর সালেকীন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং ১৬ জনের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। এরপর বিচারক জানতে চান, আসামিরা দোষী না নির্দোষ? উত্তরে স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করে। এ সময় ট্রাইব্যুনাল স্বপ্নাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দরজা কেন খোলেননি? এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চান কিনা?’ এ সময় স্বপ্নাকে সতর্ক করে বিচারক বলেন, ‘আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে, একই শাস্তি আপনারও হতে পারে। এ সময় স্বপ্না কোনো উত্তর দেয়নি।
এদিকে সোহেল রানা বলে, ‘স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই। আমাকে মাফ করে দেন। আমার সঙ্গে ডলার ছিল, সেটা কেউ দেখে নাই। তাকে ধরেন স্যার। সেও তো দোষী। আমি দোষ করিনি তা না, আমিও দোষ করেছি। আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।’
এর আগে অভিযোগ গঠন শুনানির দিন সোহেল দাবি করেছিল, মেয়েটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করে ডলার নামের এক ব্যক্তি। সোহেল শুধু শিশুটির মরদেহ দুই টুকরো করেছিল। ডলারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে সোহেল এ কাজ করেছিল বলেও দাবি করেছিল। তবে পুলিশ বলছে, মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সোহেল এখন এসব কথা বলছে।
গতকাল শুনানি চলাকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী, বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু ও আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।
ডলার ব্যক্তি না মুদ্রা যাচাই করতে হবে
আসামি সোহেল রানার ভাড়া করা ফ্ল্যাট থেকে গত ১৯ মে স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সোহেল। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা জবানবন্দিতেও ডলারের নামটি বলেনি। অভিযোগপত্রেও এই নাম নেই। সুতরাং, ডলার একটি দেশের মুদ্রা, কিংবা কোনো ব্যক্তি কিনা সেটা আগে যাচাই করতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। গতকাল আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
- বিষয় :
- শিশু হত্যা
- পল্লবী
- শিশু ধর্ষণ
