ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আলোচনা সভায় বক্তারা 

প্রতিবন্ধীদের বাদ রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন হয় না

প্রতিবন্ধীদের বাদ রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন হয় না
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১০:১৪ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১০:৩২

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষার বিষয় আইন প্রণয়ন করেছে, তাছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী অধিকার আইন রয়েছে। তবুও ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিদিন প্রতিবন্ধীদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের বাদ রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন হয় না।

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নাগরিক অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন’ বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সভার আয়োজন করে প্রতিবন্ধী নাগরিক সমাজ।

সংগঠনের সভাপতি আলিফ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন, পটুয়াখালী থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী এনামুল হক, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সাইদুর রহমান, দিনাজপুর থেকে সালমা খাতুন, গাইবান্ধা জেলা থেকে মোসাম্মত আশা বেগম, বাগের থেকে পার্থ প্রতিম মিস্ত্রী, গাইবান্ধা জেলার সাজ্জাদ হোসেন সাজু, আজাদ হোসেন, প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, প্রতিবন্ধীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যেখানে সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনে প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে তাদেরকে সবসময় বঞ্চিত রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রের কোনো জাতি গোষ্ঠীকে বাদ রেখে অর্ন্তভুক্তিমূলক সমাজ গঠন হয় না। বর্তমানে ২৮৫ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষকদের উচ্চ আদালতে মামলায় আপনারা জিতবেন।

রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার যেন সুরক্ষিত থাকে, সেই কার্যক্রম হাতে নেবেন বলে আশা রাখি। প্রতিবন্ধীরা যাতে সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। প্রতিবন্ধীর অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী অধিকার বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’ তাই সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবন্ধীদের অধিকারের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে আলিফ হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলস্রোত ধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হলে তাদের সবার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। যে সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সংগ্রামের মাধ্যমে পড়াশোনা করে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, কিন্তু তাদের অনেকেই যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রের বয়স ৫০ বছর হলেও এখনও ম্যাট্রিক পাস করতে পারেননি। রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ে যারা আছেন তারা কিন্তু তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে ব্যর্থ। তাদের অবহেলার কারণে প্রতিবন্ধীরা প্রতিনিয়ত সমাজে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কোনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আমাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক জীবন যাপনে সরকারকে পাশে দাঁড়াতে হবে। তা নাহলে সমাজে অসন্তোষ, ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেবে।

তিনি আরও বলেন, এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে সমাজ এক সময় ভারসাম্যহীন সমাজে পরিণত হবে। তাই অনতিবিলম্বে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন

×