ঢামেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু নিয়ে উত্তেজনা
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা, ৩ জনের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ০২:৫৮
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলায় জড়িত তিনজনকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। দণ্ডিতরা হলেন– শাকিব হোসেন, শাহরিয়া নাজিম রবিন ও ইমতিয়াজ আহাম্মেদ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাকি বেগম (৩৪) নামে এক নারীকে তাঁর স্বজন ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টায় তাঁর মৃত্যু হয়। তখন মৃতের ছেলে রাকিব দাবি করেন, ভুল চিকিৎসায় তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রাকিবের বন্ধু শাকিব ফোন করে তাঁর আরও কিছু বন্ধুকে হাসপাতালে আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর শাকিবসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০-৩০ জন হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা সেখানে দুজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় এবং তিনজনকে আটক করে ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করে। অন্য হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আটক তিনজনকে পরবর্তী সময় ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করা হয়। তাদের অপরাধ আমলে নিয়ে প্রত্যেককে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ম্যাজিস্ট্রেট। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় বুধবার রাত ১টা থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়। ওই সময় প্রধান ফটক বন্ধ রাখায় দুর্ভোগে পড়েন জরুরি চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরা। পরে গতকাল ভোর সাড়ে ৪টা থেকে আবারও সেবা দিতে শুরু করেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার রাত ১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ধাওয়া করলে রোগীর স্বজন পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর সেখানে র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিতে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন এবং সেবা দেওয়া বন্ধ রাখেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, রোগীর স্বজনের মারধরে চার চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- ঢামেক
