শারমিন একাডেমির প্রশাসনিক কর্মকর্তা পবিত্র কুমার গ্রেপ্তার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমিতে শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি হলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা পবিত্র কুমার বড়ুয়া। গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুর-৬ নম্বরে এই অভিযান চালানো হয়।
এর আগে শিশুটিকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, স্কুলের পোশাক পরা শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে অফিস কক্ষে নিয়ে যান এক নারী। তিনি শিশুটিকে চড় মারেন। তখন অফিস কক্ষে থাকা এক পুরুষ কখনও শিশুটির গলা, কখনও মুখ চেপে ধরেন। ভয়ে শিশুটি কাঁদছিল। পরে জানা যায়, ভিডিও ফুটেজে থাকা নারী শারমিন জাহান এবং পুরুষ পবিত্র কুমার।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, চার বছর বয়সী এক শিশু গত বছরের ১৯ নভেম্বর শারমিন একাডেমির প্লে শ্রেণিতে ভর্তি হয়। গত ১৮ জানুয়ারি সকালে শিশুটির মা তাকে স্কুলে রেখে আসেন। দুপুরে সন্তানকে আনতে তিনি স্কুলে যান। তখন দেখেন, স্কুলের অধ্যক্ষ শারমিন জাহান তাঁর অফিস কক্ষে শিশুটিকে আটকে রেখেছেন। সেখানে অধ্যক্ষের স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। সন্তানকে তিনি ভীতসন্ত্রস্ত ও কান্নারত অবস্থায় পান। বাসায় ফিরে শিশুটি জানায়, তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিষয়টি অভিভাবককে জানালে গুরুতর ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে শিশুর অভিভাবক স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চান। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ ফুটেজ দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা যায়, শিশুটিকে অফিস কক্ষে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর শিশুটির মাথা, গলা ও কানে ব্যথা হলে তাকে প্রথমে নয়াপল্টনের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উপকমিশনার জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী শিশুর মা পল্টন থানায় শিশু আইনে মামলা করেন। মামলায় শারমিন জাহান ও পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে আসামি করা হয়। এরপর পল্টন থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পবিত্র কুমারের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর গতকাল ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পল্টন থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি চঞ্চল প্রকৃতির। সে প্রায়ই নানা দুষ্টুমি করত। এমন তুচ্ছ কারণে তাকে নির্যাতন করা হয়। গ্রেপ্তার পবিত্র কুমারকে গতকালই আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অপর আসামি শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- গ্রেফতার
