ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নরসিংদীসহ সারাদেশে ধর্ষণ ও সহিংসতার প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ

নরসিংদীসহ সারাদেশে ধর্ষণ ও সহিংসতার প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ
×

ছবি: সমকাল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১:৪১

নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শাঁখারীবাজার, রায়সাহেব বাজার, ন্যাশনাল হাসপাতাল, বাহাদুর পার্ক ঘুরে বিশ্বজিৎ চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে জকসুর ভিপি (সহ-সভাপতি) এবং আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমরা  জুলুমতন্ত্রের পরিবর্তে আরেক জুলুমতন্ত্রকেই বারবার গ্রহণ করি। মিডফোর্ডে চাঁদার জন্য পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বিচার হয়নি, ময়মনসিংহে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বিচার হয়নি, নরসিংদীতে আমার বোনকে ধর্ষণ করে সরিষা খেতে ফেলে দেওয়া হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। মানুষের সম্পদ লুন্ঠন করা হচ্ছে, গুম খুনের শিকার হচ্ছে। আমরা আইয়ামে জাহিলিয়াতের দিকে ধাবিতে হচ্ছি।

শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শান্তা আক্তার বলেন, নরসিংদীর নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা আপনারা জানেন। প্রথমবার ধর্ষণ হওয়ার পর ধর্ষকদের চাপে মেয়েকে যখন বাবা খালার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল তখন ধর্ষক নূরা বাবার সামনে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এনে ধর্ষণ করে আবার হত্যা করে। এর আগে যদি ধর্ষণের বিচার করতো তাহলে এই অবস্থা তৈরি হতো না। ধর্ষকের কোনো দল মত থাকে না পারেনা। অনতিবিলম্বে এই ধর্ষণের বিচার করতে হবে।

জকসুর জিএস (সাধারণ সম্পাদক) এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, পাঁচ আগস্ট পরবর্তী ন্যায় ও ইনাসফের রাষ্ট্র চেয়েছিলাম, ধর্ষণ ও অত্যাচার মুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। বিভিন্ন সময়ে নিপীড়ন ঘটেছে, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিন্তু এই অপরাধগুলোর শাস্তি দিলে ধর্ষণের দিকে গড়াতো না।

আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শামসুল আলম মারুফ বলেন, নরসিংদীতে যে ঘটনা ঘটেছে তা নতুন নয়। জুলাই পরবর্তী সময়ে সহিংসতা বন্ধ হয় নাই। সারাদেশে মানুষের নূন্যতম জীবনের নিরাপত্তা নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও সারাদেশে নৈরাজ্য কায়েম হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন ব্যর্থ। উল্টো তারা মোরাল পুলিশিং, সাধারণ জনতার উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে কিন্তু যখন ধর্ষণ হয়, মানুষ নিপীড়নের শিকার হয় তখন পুলিশ প্রশাসন নিশ্চুপ।

আরও পড়ুন

×