ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে থানায় সোপর্দ

ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে থানায় সোপর্দ
×

আহত রাহিদ খান পাভেল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১৪:৫৬ | আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ২২:৩৭

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রাহিদ খান পাভেল নামে এক শিক্ষার্থীকে কয়েক দফা পিটিয়ে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পাভেল পুলিশি তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার ভোররাতে সেহরির সময়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হাসিবুল ইসলাম, একই বর্ষের দর্শন বিভাগের সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত সবাই একই বর্ষের শিক্ষার্থী। সর্দার নাদিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন। পরবর্তী তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদে যুক্ত হয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, বুয়েট ক্যান্টিনে সেহরিরখেতে গিয়ে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ইন্ধনে ইফতার পার্টি এবং সম্প্রতি ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার নিয়ে পাভেলকে ডেকে তার সঙ্গে তর্কে জড়ান হাসিব আল ইসলামসহ নেতা-কর্মীরা। এরপর এটি হাতাহাতিতে জড়ায় এবং পরবর্তী পাভেলকে বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এনে কয়েক দফা পিটিয়ে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে সেখান থেকে পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনাটি তুলে ধরে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী অদিতি ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের ওপর হামলার বিচার চাই। হামলাকারীদের এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য শাস্তির দাবি জানাই।’

তিনি আর বলেন, ‘‘হামলায় জড়িতদের মধ্যে চিহ্নিত তিনজন হলো- সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ, হাসিব আল ইসলাম, সাইফুল্লাহ। এরা প্রত্যেকে ছাত্রশক্তির সঙ্গে যুক্ত এবং হামলাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ‘কতিপয় সাধারণ শিক্ষার্থী’ তকমা ব্যবহার করছে। ক্যাম্পাসে এই উঠতি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন, এদের রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রতিহত করুন।’’

ঘটনার পর ফেসবুকে সাইফুল্লাহ লেখেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল্লাহ সমকালকে বলেন, বুয়েটে সেহরি খেতে গেলে পাভেলকে দেখে হাসিব ডাক দেয়। এসময় ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের ইস্যু ইত্যাদি নিয়ে তারা তর্কে জড়ায়। পরে পাভেল কাকে যেন ফোন দেয়। এরপর হাসিব ও শুভর সঙ্গে হাতাহাতি হয় আর তাকে বের করে নিয়ে যায়। আমি তখনও বুয়েট ক্যান্টিনেই ছিলাম। পরে বের হয়ে শাহবাগ থানায় গিয়ে দেখি মারধর করা হয়েছে। ছাত্রলীগ ইস্যু থাকায় আমি তখন ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম। তবে পাভেল এমনিতে আমার খুবই ভালো বন্ধু।

ঘটনার বিষয়ে জানতে হাসিব আল ইসলাম ও সরদার নাদিম শুভকে একাধিকবার ব্যক্তিগত নাম্বার ও হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করা হয়। তবে তারা কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে ঘটনার পর সর্দার নাদিম শুভর ফেসবুক আইডি বন্ধ রয়েছে।

জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, বর্তমানে পাভেল চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×