ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রলীগ সন্দেহে সাহ্‌রির সময় দফায় দফায় পিটুনি

ছাত্রলীগ সন্দেহে  সাহ্‌রির সময় দফায়  দফায় পিটুনি
×

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে বেধড়ক পিটিয়ে সোমবার ভোরে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় সংগৃহীত

 বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৩১ | আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাহিদ খান পাভেল নামে এক শিক্ষার্থীকে কয়েক দফা পিটিয়ে রক্তাক্ত করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গুরুতর আহত পাভেল পুলিশি তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার ভোরে (সাহ্‌রির সময়) দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের পাভেলকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হাসিবুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। অভিযুক্তরাও একই বর্ষের শিক্ষার্থী। সর্দার নাদিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন। পরে তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদে যুক্ত হয়েছিলেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, বুয়েটের ক্যান্টিনে সাহ্‌রি খেতে যাওয়ার পর ছাত্রলীগ পুনর্বাসন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ইন্ধনে ইফতার পার্টি করা এবং সম্প্রতি ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার নিয়ে পাভেলকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তর্কে জড়ান অভিযুক্তরা। এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। পরে পাভেলকে টেনেহিঁচড়ে বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এনে কয়েক দফা পিটিয়ে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে। 

এ প্রসঙ্গে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী অদিতি ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের ওপর হামলার বিচার চাই। হামলাকারীদের এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য শাস্তির দাবি জানাই। হামলায় জড়িতদের মধ্যে চিহ্নিত তিনজন হলো– সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ, হাসিব আল ইসলাম, সাইফুল্লাহ। এরা প্রত্যেকে ছাত্রশক্তির সঙ্গে যুক্ত এবং হামলাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য কতিপয় সাধারণ শিক্ষার্থী তকমা ব্যবহার করছে। ক্যাম্পাসে এই উঠতি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন, এদের রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রতিহত করুন।’ 
ঘটনার পর ফেসবুকে সাইফুল্লাহ লেখেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘বুয়েটে সাহ্‌রি খেতে গেলে পাভেলকে দেখে হাসিব ডাক দেয়। এ সময় ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের ইস্যু ইত্যাদি নিয়ে তারা তর্কে জড়ায়। পরে পাভেল কাকে যেন ফোন দেয়। এর পর হাসিব ও শুভর সঙ্গে হাতাহাতি হয় আর তাকে বের করে নিয়ে যায়। আমি তখনও বুয়েট ক্যান্টিনেই ছিলাম। পরে বের হয়ে শাহবাগ থানায় গিয়ে দেখি মারধর করা হয়েছে। ছাত্রলীগ ইস্যু থাকায় আমি তখন ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম। তবে পাভেল এমনিতে আমার খুবই ভালো বন্ধু।’ 

ঘটনার বিষয়ে জানতে হাসিবুল ইসলাম ও সরদার নাদিম শুভকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে সর্দার নাদিম শুভর ফেসবুক আইডি বন্ধ পাওয়া গেছে। 
জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, বর্তমানে পাভেল চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

মারধরের বিচার দাবি শিক্ষার্থীদের 
শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে ‘ছাত্রলীগ তকমা’ দিয়ে মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পাভেলের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যায় জড়িতদের দ্রুত আটক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তারা।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (একাংশ) নেতা ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী অদিতি ইসলাম বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রমাণ ছাড়াই তার ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। ছাত্রশক্তি সংগঠনের কর্মীরা পাভেলকে কয়েক দফা পিটিয়েছে, শিকল দিয়ে মারধর করেছে এবং তার আঙুল থেঁতলে দিয়েছে। এ ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিউর জামান জুয়েল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবিতে। কিন্তু এখন জুলাইয়ের দোহাই দিয়ে যে ‘মব কালচার’ তৈরি করা হচ্ছে, তা ওই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি। এতে জুলাইয়ের সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ হচ্ছে এবং ছাত্ররাজনীতি ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু মুজাহিদ আকাশ বলেন, কেউ যদি আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে থাকে বা কোনো অপরাধ করে, তাকে আইনের আওতায় আনা যেতে পারে। কিন্তু মব সৃষ্টি করে কাউকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা বা হত্যা করা কোনো সমাধান হতে পারে না।
 

 

আরও পড়ুন

×