ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিক্রি কমেছে ৮০ শতাংশ বলছে প্রকাশক ঐক্য

বিক্রি কমেছে ৮০ শতাংশ  বলছে প্রকাশক ঐক্য
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং পবিত্র রমজান মাসে অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের কারণে এবার ক্রেতা-পাঠকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যা নিয়ে আগেও হতাশা ব্যক্ত করেছিলেন প্রকাশকরা। তারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চলতি বছর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরুর পর থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ১৪ দিনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি অন্তত ৮০ শতাংশ কমেছে। 

বই বিক্রির অবস্থা এতই খারাপ যে প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশক স্টল নির্মাণের প্রাথমিক খরচটুকুও তুলতে পারেননি।
গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রকাশক ঐক্যের সদস্যরা। লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন প্রকাশনা সংস্থা ইউপিএলের মাহরুখ মহিউদ্দিন, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্সের জাকির হোসেন, আদর্শ প্রকাশনীর মাহাবুবুর রাহমান।

প্রকাশক ঐক্য বিবৃতিতে জানায়, ২০২৫ সালের বইমেলায় বিক্রি কমেছিল ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ। আর চলমান ২০২৬ সালের মেলায় বিক্রি কমেছে ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ। এবারের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি ২০২১ সালের করোনাকালীন বইমেলার চেয়েও খারাপ। অংশগ্রহণকারী প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশকের স্টল নির্মাণের প্রাথমিক খরচই ওঠেনি। এমনকি প্রায় ৩০ শতাংশ প্রকাশকের পাঁচ হাজার টাকার বইও বিক্রি হয়নি।
প্রকাশক ঐক্য জানায়, মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা ও সদিচ্ছার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়েছে। একইসঙ্গে আয়োজক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলা একাডেমিকেও ধন্যবাদ জানানো হয়। 

যদিও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাঁচ ইউনিটের বেশি স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নীতি কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশনা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশকদের অন্তত একটি করে মানসম্পন্ন বইয়ের ৩০০ থেকে ৫০০ কপি সরকারিভাবে ক্রয়ের ব্যবস্থা করা, প্রতিটি অংশগ্রহণকারী প্রকাশকের সরকারি বই ক্রয়ের বাজেট বৃদ্ধি, প্রকাশনা খাতে পেশাগত প্রশিক্ষণ চালু করা এবং স্কুল-কলেজের গ্রন্থাগারগুলো সক্রিয় করা।

প্রকাশক ঐক্য জানায়, প্রতিবছর মেলায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার বই বিক্রির যে তথ্য প্রচার করা হয়, বাস্তবে বিক্রি তার চেয়ে কম। তবে প্রকাশকরা ভবিষ্যতে শতকোটি টাকার বইমেলার স্বপ্ন দেখছেন। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই ৫০ লাখ থেকে এক কোটি বই বিক্রির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। 
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বইমেলার তারিখ নির্ধারণ ও স্টল ভাড়ার বিষয়ে আগামী বছরের জন্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি জাতীয় গ্রন্থনীতি হালনাগাদ করে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্পকে বইমেলার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনারও আহ্বান জানানো হয়।
প্রকাশক ঐক্য মনে করে, প্রকাশনা খাতে বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) এবং প্রকাশক ঐক্য কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়। লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে সম্মিলিত উদ্যোগেই প্রকাশনা শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব।

আরও পড়ুন

×