ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদের দ্বিতীয় দিন

রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে প্রচণ্ড ভিড়

রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে প্রচণ্ড ভিড়
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬ | ১৯:৪৫

ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় দেখা যাচ্ছে। ঈদের ছুটিকে আনন্দমুখর করে তুলতে সকাল থেকে সব বয়সের মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এসব বিনোদন কেন্দ্রে। এর মধ্যে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে চিড়িয়াখানা এলাকার সড়কে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। যানবাহন না পেয়ে হাজারো মানুষ হেঁটে যাতায়াত করছেন। দর্শনার্থীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। 

আজ রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর ১ নম্বরের সনি সিনেমা হল থেকে চিড়িয়াখানার দিকে অল্প এগোলেই যানজট শুরু। দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে অনেকে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে নেমে যাচ্ছেন। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা হেঁটে তাঁরা চিড়িয়াখানায় যাচ্ছেন। মানুষের ঢল থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে রাইনখোলা মোড় থেকে চিড়িয়াখানার দিকে যানবাহন যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে চিড়িয়াখানাগামী সব ধরনের দর্শনার্থীদের প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে চিড়িয়াখানা থেকে বের হওয়া লোকজনও যানবাহন পাচ্ছেন না। ফলে তাঁরা হেঁটেই গন্তব্যে যাচ্ছেন। ভিড়ের সুযোগে বাড়তি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা যাত্রা ভেদে দ্বিগুণ ভাড়াও চাইছেন। এতে বাড়তি দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ সকালে আবার কেউ দুপুরে এসেছেন। অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। এতে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর ভিড় আরও বেড়েছে। প্রবেশপথ থেকে শুরু করে বাঘ, সিংহসহ বিভিন্ন পশুপাখির খাঁচার সামনে পর্যন্ত ছিল দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। বেশির ভাগ দর্শনার্থীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, জিরাফ, জেব্রা, ভোঁদড়, বানর, উল্লুকসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। এছাড়া ময়ূরসহ বিভিন্ন পাখির খাঁচার সামনেও প্রচুর ভিড়। শিশু-কিশোরদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

১০ বছরের শিশু শাওন মা-বাবার সাথে চিড়িয়াখানায় এসেছে ঘুরতে।  মিরপুর থেকে আসা শাওন বলে, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে চিড়িয়াখানায় এসেছি। সকাল থেকে ঘুরছি।  বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, বানর, ইম্পালা, লামা, ভাল্লুক ও উল্লুকসহ সব পশু-পাখি দেখেছি। খুবই আনন্দ পাচ্ছি।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ডিএমপি পুলিশ, র‍্যাব ও টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি চিড়িয়াখানার নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, আনসার বাহিনী ও অন্যান্য কর্মচারীরাও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, দর্শনার্থীর কারণে সৃষ্ট যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। ফলে দর্শনার্থীরা মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে আসা-যাওয়া করতে পারছেন এবং চিড়িয়াখানার ভেতরেও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আজকের তুলনায় ছুটির শেষ দিন (সোমবার) দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জাতীয় জাদুঘরে শিশুদের উপস্থিতি বেশি
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে জাতীয় জাদুঘরেও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। জাদুঘরে আসা দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই শিশু-কিশোর। সংগ্রহশালাটিতে তাদের আগ্রহই বেশি।

ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল সাড়ে দশটায় খুলে দেওয়া হয় জাতীয় জাদুঘর। একে একে প্রবেশ করতে থাকেন দর্শনার্থীরা। আজ জাদুঘর খোলা ছিল বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি লাইন দিয়ে জাতীয় জাদুঘরে প্রবেশ করছেন দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীদের বেশির ভাগই শিশু-কিশোর। তারা পরিবারের বাবা-মা এবং ভাই-বোনের সঙ্গে এসেছে। প্রথমে গেটের বাইরে থেকে টিকিট সংগ্রহ করছেন। তারপর ভেতরে গিয়ে ব্যাগ কাউন্টারে জমা দিয়ে মূল মিউজিয়ামে প্রবেশ করছেন। 

মা-বাবার হাত ধরে জাতীয় জাদুঘরে এসেছে পাঁচ বছরের লামিয়া। জাদুঘরে দেশের বিভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্য খুবই খুশি সে। উচ্ছ্বাস নিয়ে বলে, ‘বাবা-মার সঙ্গে জাদুঘরে এসেছি। ঈদের ছুটিতে আজ শুধু ঘুরবো।'

জাতীয় জাদুঘরের নিরাপত্তাকর্মী রবিউল আলম বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি চলছে। অফিস আদালত বন্ধ থাকায় অনেকেই দূর থেকে পরিবার নিয়ে এসেছে।আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করছি।’

ভিড় নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণেও
ঈদের ছুটিতে রাজধানীর অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারেও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নগরজীবনের ব্যস্ততার মাঝে এই সময়টুকু পরিবার নিয়ে কাটাতে পেরে অনেকেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে অনেকে বিজ্ঞানভিত্তিক বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত করছেন নিজেদের ঈদের আনন্দ। 

ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল থেকেই নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের আগমন শুরু হয়। দুপুরের দিকে দেখা যায় শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণী ও অভিভাবকরাও সমান আগ্রহ নিয়ে ভেতরে ঢুকছেন। টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় অনেক দর্শনার্থীকে।

দর্শনার্থীরা জানান, ঈদের ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার জন্য ঢাকার ভেতরে নিরাপদ ও শিক্ষামূলক জায়গা নভোথিয়েটার। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এটি বিনোদনের পাশাপাশি শেখার সুযোগও তৈরি করে।

নভোথিয়েটারের ভেতরে মূল আকর্ষণ ডোম থিয়েটার। যেখানে মহাকাশভিত্তিক প্রদর্শনী দর্শকদের ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যায়। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি এই প্রদর্শনীতে সৌরজগত, গ্রহ-নক্ষত্র ও মহাকাশের নানা রহস্য তুলে ধরা হয়।

এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ইন্টারেক্টিভ গ্যালারি ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনী, যা শিশু-কিশোরদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

নভোথিয়েটার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে নিয়মিত প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী একাধিক শো পরিচালনা করা হচ্ছে।

নভোথিয়েটারে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাসুদ আলম বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের দিনটা একটু ভিন্নভাবে কাটাতে চেয়েছিলাম। এখানে এসে বিজ্ঞানের বিষয়গুলো এত কাছ থেকে দেখা সত্যিই অন্যরকম অভিজ্ঞতা।’ 

স্কুল শিক্ষার্থী নাফিসা জানায়, ‘আমি আগে শুধু বইয়ে গ্রহ-নক্ষত্রের কথা পড়েছি। এখানে এসে সেগুলো চোখের সামনে দেখতে পারছি, খুব ভালো লাগছে।’

আরও পড়ুন

×